আবু হানিফ স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জঃ- কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯৯তম পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত। ঈদের দিন সকাল ৯টায় দেশের অন্যতম বৃহৎ এ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রহণ করা হয়েছে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরা। এছাড়া পুরো ঈদগাহ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। ড্রোনের মাধ্যমেও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।
ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে ঈদগাহ মাঠের কিছু অংশে পানি জমে রয়েছে। তখনও হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর সুবিধার্থে মাঠে দাগ কাটার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু রাখা হবে। পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য ওজু ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন,
“ঈদগাহ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পুরো এলাকা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে।”
তিনি আরও জানান, মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া অতিরিক্ত কোনো সামগ্রী সঙ্গে না আনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেন চালু থাকবে। পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য ওজু ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, জনশ্রুতি অনুযায়ী ১৮২৮ সালে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে এ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকেই মাঠটির নাম হয় ‘সোয়ালাখিয়া’, যা পরবর্তীতে ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করে।