নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের হামলায় গুরুতর আহত বিধবা বোন কুলসুমা খাতুন (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও নিউরোসাইন্স হাসপাতালে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত কুলসুমা খাতুন নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের উত্তর পালাহার গ্রামের মৃত আমজত আলীর মেয়ে। অভিযুক্ত বড় ভাই ইস্রাফিল একই গ্রামের বাসিন্দা। গত ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) জুম্মার নামাজের পর জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাড়িতে বৈদ্যুতিক ফ্যান চালানোর বিষয়ে তুচ্ছ ঘটনায় কুলসুমা খাতুনের সাথে ভাই ইস্রাফিলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইস্রাফিল দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বোনের ওপর হামলা চালায়। এতে কুলসুমা খাতুনের হাত, পিঠ ও পায়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। স্থানীয়রা ও ছোট ভাই চাঁন মিয়া তাঁকে উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও শরীরের চারটি আঘাতের স্থানে সেলাই শেষে স্বজনরা তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
একই দিন রাতে কুলসুমার ছেলে তুষার বাড়ি ফিরে মায়ের আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তাঁকে আগারগাঁও নিউরোসাইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে মারা যান তিনি।
নিহতের ছোট ভাই চাঁন মিয়া বোনকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও ঘটনাটি "ভাই-বোনের বিষয়" বলে এড়িয়ে যান। মা হারানোর বেদনায় বাকরুদ্ধ ছেলে তুষার মিয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমি আর কার বিচার চাইবো? আমার মা তো আর দুনিয়ায় নেই। ”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইস্রাফিলের স্ত্রী ঝরণা আক্তার দাবি করেন, মারধরের কারণে নয়, কুলসুমা স্ট্রোক করে মারা গেছেন।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, ভাই-বোনের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ ঢাকায় রয়েছে এবং তাঁর পরিবার ময়নাতদন্তে আগ্রহী নয় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।