নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের পন্ডিতপুর গ্রামে সরকারি হালট (রাস্তা) দখলমুক্ত করার জেরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে। হামলাকারীরা ভুক্তভোগী পরিবারের ৫টি বসতঘর ভাঙচুর এবং পালিত হাঁস ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই গ্রামের ওবায়দুল হক বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করে নান্দাইল মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে প্রতিপক্ষ ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায় যে, তাদের লোকজনও আহত হয়েছে এবং ন্যায় বিচার স্বার্থে তারাও থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
উক্ত হামলায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য কামাল হোসেন (৩০), আলতাফ হোসেন (৪০), সোহাগ মিয়া (২৫) ও নজরুল ইসলাম (৫০)-কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ও অন্য আহতদেরকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী ওবায়দুল হক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পন্ডিতপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন ও মোবারক হোসেন গং দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের একটি সরকারি হালট দখল করে আসছিলেন। এর প্রতিবাদে গ্রামবাসীর পক্ষে মো. ওবায়দুল হক নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি সার্ভেয়ার গিয়ে হালটটি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোশারফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা ওবায়দুল হকের পরিবারের ওপর চড়াও হয়। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ওবায়দুল হকের চাচা আজমত আলীর ৩০০টি হাঁস বিবাদী মোশারফ ও মোবারক গং ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলে পরদিন শুক্রবার সকালে মোশারফ হোসেনের নির্দেশে মোবারক, আরজু, আকির, খায়রুলসহ ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল রামদা, কুড়াল, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ওবায়দুল হকের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা ওবায়দুল হক, তাঁর বড় ভাই আসাদ মিয়া, চাচাতো ভাই হানিফ মিয়া, চাচা নজরুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেনের বসতঘরগুলো কুপিয়ে ও পিটিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী ওবায়দুল হক।
ভুক্তভোগী ওবায়দুল হক জানান, “সরকারি রাস্তা উদ্ধারের জন্য অভিযোগ করায় তারা আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তারা এলাকার চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসী। বর্তমানে আমাদের পরিবারের ৫ জন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অপরদিকে অভিযুক্ত মোবারক হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভাংচুর ও লুটপাটের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, সরকারি হালট নিয়ে কোন বিরোধ নেই। কে বা কাহারা হাসঁ নিয়ে গেছে এটাকে ইস্যু করে আমাদের উপর তারা চড়াও হয়, এতে তাদের হামলায় আমাদের লোক তাহের উদ্দিন, মোঃ খাইয়ুম মিয়া ও শাকের আহম্মেদ আহত হয়েছে। আমরা সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) সম্রাজ জানান, “পন্ডিতপুর গ্রামে হামলার বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টির আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও পক্ষদ্বয়ের লোকজন জানিয়েছেন বিধায় আইনী কার্যক্রম স্থগিত আছে।”