নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের ১২৫ নং পূর্ব জাহাঙ্গীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ৪ বছরের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মোঃ উজ্জল মিয়া। তবে বিষয়টি তদন্তে আত্মসাত প্রমাণিত না হলেও এ ধরনের ভূল হওয়ার কারণে কোন উপায় না পেয়ে ওই টাকা অভিভাবককে ফেরত দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কড়ইকান্দী গ্রামের মৃত আইন উদ্দিনের ছেলে মোঃ উজ্জল মিয়ার মেয়ে তিসা মনি বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তিসা মনি যখন প্রথম শ্রেণীতে পড়ত, তখন থেকেই তার নামে একটি উপবৃত্তির বই ইস্যু করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৪ বছর অতিবাহিত হলেও ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল নম্বরে উপবৃত্তির কোনো টাকা আসেনি।
ভুক্তভোগী বাবা মোঃ উজ্জল মিয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, প্রধান শিক্ষক মোঃ জয়নাল আবেদীন ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীর বাবার নম্বরের পরিবর্তে অন্য একটি মোবাইল নম্বরে (০১৭৫৪-২১০৭৫৮) নিয়মিত উপবৃত্তির টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এতে দীর্ঘ চার বছর ধরে সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তিসা মনি। তবে প্রধান শিক্ষক বলছেন, দুজন শিক্ষার্থীর একই নাম হওয়ায় এই মিসটেক হয়েছে। যেহেতু বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ বা কম্পিউটার না থাকায় বাহিরের দোকানে কাজ করতে হয়, হয়তো সে সময় ভূলটা হয়েছে। তবে সংশোধনের জন্য নতুন করে মোবাইল নাম্বার ও এনআইডি কার্ড চাইলে তা নিয়ে এটিও স্যারকে দেওয়া হয়। কিন্তু নাম ও সীমের মালিকানার মিল না থাকায় তাও সম্ভব হয়নি।
ওই মোবাইল নাম্বারের মালিকানা একই স্কুলের তিশা মণি নামে আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আউয়াল মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি সাধারণ এতো কিছু বুঝিনা, আমাকে অফিসে ডেকেছিল। তারা (স্যারেরা) বলছে আমার কোন দোষ নেই। পরে আমি চলে আসি।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন,“দীর্ঘদিন টাকা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগের পর আমার মেয়ের উপবৃত্তির টাকা ফেরত পেয়েছি।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, ভুলবশত অন্য একটি মোবাইল নম্বরে উপবৃত্তির টাকা পাঠানো হয়েছে। পরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীর চার বছরের উপবৃত্তির মোট ৫ হাজার ৪০০ টাকা অভিভাবকের কাছে ফেরত দেন।
নান্দাইল উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) আমিনুল ইসলাম জানান “এটি ইচ্ছাকৃত ভূল নয়, নাম ও তথ্যের মিল থাকায় ভুলবশত অন্য মোবাইল নম্বরে টাকা চলে গিয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।”