আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক সচেতনতামূলক র্যালি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার সকালে উপজেলা চত্বর থেকে সচেতনতামূলক র্যালিটি শুরু হয়। র্যালিটি পৌর বাজারসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন স্থানে জনসাধারণের মাঝে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা পৌঁছে দেয়। পরে র্যালিটি পাকুন্দিয়া পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে অংশগ্রহণকারীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। এ সময় রাস্তা, বাজার এলাকা ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার করা হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সুন্দর, স্বাস্থ্যসম্মত ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া থানার এসআই জাহাঙ্গীর, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম, পাকুন্দিয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নিতাই দাস এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক মাসুদ।
এ সময় বক্তারা বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সবাই সচেতন হলে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক পাকুন্দিয়া গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠানটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং অংশগ্রহণকারীরা পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পাকুন্দিয়া গড়ার প্রত্যয়ে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।