
[ জমি ফেরত চাইতেই প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ ]
আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের তালদশী গ্রামে এক বৃদ্ধ বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে জমি নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানার পর জমি ফেরত চাইলে উল্টো বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার (৯০) জানান, বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে তাঁর দ্বিতীয় ছেলে মোহর উদ্দীন চিকিৎসার কথা বলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের করেন। পরে কৌশলে পাকুন্দিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর সাড়ে ১০ শতাংশ জমি হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল জব্বার বলেন, “আমি বুঝতেই পারিনি কী কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। পরে জানতে পারি আমার জমি ছেলের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি জমি ফেরত চাইলে সে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে শুরু করে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে মোহর উদ্দীন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন এবং প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
এ বিষয়ে আব্দুল জব্বারের বড় ছেলে গিয়াস উদ্দীন বলেন, “ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ-দরবার করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বরং জমি ফেরত চাওয়া এবং সালিশে যাওয়ার কারণে মোহর উদ্দীন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে আমাকে ও আমার বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।”
পরিবারের দাবি, বৃদ্ধ আব্দুল জব্বার বর্তমানে চরম মানসিক কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিজের নামে থাকা জমি ফেরত পাওয়ার আশায় তিনি বিভিন্ন মহলের দ্বারস্থ হলেও এখনো কোনো সুরাহা পাননি।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে মোহর উদ্দীনের বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মোহর উদ্দীন বলেন, “আমার বাবা স্বেচ্ছায় আমাকে জমি লিখে দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
বৃদ্ধ বাবার অভিযোগ কতটা সত্য এবং জমি হস্তান্তরের পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।