
নুরুজ্জামান আশরাফ, বাজিতপুর থেকে: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার সাক্ষী ও অভিযুক্তের পরিবার এই ঘটনাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বৃদ্ধকে ফাঁসানো হয়েছে।
গত ১১ জুলাই, শুক্রবার কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মালন মিয়া বাজিতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তার ৯ বছর বয়সী মেয়েকে প্রতিবেশী বুধু মিয়া (৭০) প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বাজিতপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়। পরে অভিযুক্ত বুধু মিয়া থানায় উপস্থিত হলে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সাক্ষীদের ভিন্নমত: মামলার এজাহারে যাদের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা এই অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। মামলার ২ নম্বর সাক্ষী শাহেনা খাতুন বলেন, ঘটনার সময় তিনি কিছুই দেখেননি, অথচ তাকে সাক্ষী করা হয়েছে। আরেক সাক্ষী বিলকিসও নিজেকে এই ঘটনার সাক্ষী নন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তার নামটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিলকিসের মা রুবিনা খাতুনও এই ঘটনাকে সাজানো বলে অভিহিত করে বলেন, তাদের নাম ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে মামলা করা হয়েছে।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পরিবারের: অভিযুক্ত বুধু মিয়ার স্ত্রী হামিদা খাতুন দাবি করেন, "আমার স্বামী ৭০ বছরের একজন বৃদ্ধ মানুষ। ঘটনার সময় তিনি বাজারে ছিলেন। তার পক্ষে এমন জঘন্য কাজ করা সম্ভব নয়। এটি আমাদের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র।"
অভিযুক্তের ছেলে হাবিবুর রহমান জানান, "আমাদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের জের ধরেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমার বাবাকে ফাঁসানো হয়েছে।"
কথিত ফোনালাপ ও নতুন তথ্য : এই ঘটনায় অভিযোগকারী মেয়েটির একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, যেখানে তাকে ভিন্ন কথা বলতে শোনা যায়। মেয়েটি বলছে, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং বুধু মিয়া তার কোনো ক্ষতি করেননি। এই ঘটনাটিকে সে একটি মিথ্যা ঘটনা বলে উল্লেখ করে। এই ফোনালাপ মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ষড়যন্ত্রের দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য পুলিশি তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে এলাকাবাসী।