আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: রাতে ছিল বড় ভাইয়ের গায়ে হলুদের আয়োজন। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে চারদিকে ছিল আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। পরদিন হওয়ার কথা ছিল বড় ভাইয়ের বিয়ে। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নেমে আসে শোকের কালো ছায়া। বিয়ের দিনেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সজিব (২০) নামে এক যুবক।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাকুন্দিয়া উপজেলার কুষাকান্দা মাজার এলাকায় যাত্রীবাহী অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেল চালক সজিব নিহত এবং তার সঙ্গে থাকা রিয়াদ (২৯) গুরুতর আহত হন।
নিহত সজিব উপজেলার আগরপাট্টা গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। আহত রিয়াদ উপজেলার চরটেকী গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে। তারা সম্পর্কে মামাতো ও ফুফাতো ভাই বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সজিব ও রিয়াদ মোটরসাইকেলে করে আগরপাট্টা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলা সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে কুষাকান্দা মাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে দুজনই গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
সেখানে সজিবের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, “ঢাকায় নেওয়ার পথে সজিবের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। যে পরিবারে বিয়ের আনন্দে উৎসবের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর স্বজন হারানোর বেদনা। আহত রিয়াদ বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।