আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফারদীয় ইউনিয়ন শহীদ আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে অনুপস্থিত থাকলেও তার নামে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম (রুবেল) গত ২০২৫ ইং বছরের ডিসেম্বর মাসে তার স্ত্রীর অসুস্থতার কথা বলে পাঁচ দিনের ছুটি নেন। তবে সেই ছুটির পর থেকে তিনি আর স্কুলের আসেনি। তিনি পাঁচ মাস যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এলাকায় বাসীর দাবি, এ সময়ের মধ্যে তিনি ইন্ডিয়া চলে যান।
এদিকে, শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির মাধ্যমে তার সরকারি অংশের বেতন-ভাতা নিয়মিত উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, হিসাব বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান মারাত্মকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে, যা অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও হাজিরা খাতায় তাকে উপস্থিত দেখানো হয়েছে। এ কাজে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীনের সহযোগিতার রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন পযন্ত বিষয়টি শিক্ষা অফিস বা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে অবগত করা হয়নি।
জানা গেছে, আবুল কালাম চলতি মাসের ২৮ তারিখ দেশে ফিরতে পারেন। যদিও স্ত্রীর চিকিৎসার কথা বলে ছুটি নেওয়া হয়েছিল, সরেজমিনে দেখা গেছে তার স্ত্রী-সন্তান নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন বলেন,
“ডিসেম্বরে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে তিনি ইন্ডিয়া গেছেন। আগামী ২৮ তারিখ ফেরার কথা রয়েছে।”
তবে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁঞা বলেন, “পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে প্রায় পাঁচ মাস অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা তোলার সুযোগ নেই। বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি রুপম দাস বলেন, “শিক্ষক অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলছেন—এ বিষয়টি এখনই জানতে পারলাম। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”