নিজস্ব প্রতিবেদক: “মা-বাবার দাবি ছুটাইয়ালা, তাদের কাছ থেকে চিরবিদায় নিয়া রাখিস”Ñএমনই এক লোমহর্ষক অডিও রেকর্ডে হুমকির পর নিখোঁজ হয় ইয়াছিন (১৫) নামে এক কিশোর। ঘটনার ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তরা অধরায় রয়েছে এবং নিখোঁজ কিশোর উদ্ধারের কোন অগ্রগতি নেই। একমাত্র সন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এখন দিশেহারা দিনমজুর পিতা হারুন মিয়া।
জানাগেছে, নিখোঁজ ইয়াছিন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই কোনাঘাটা গ্রামের হারুন মিয়ার পুত্র এবং সিংদই উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। গত ৯ মাচ/২৬ইং রাতে প্রতিবেশী সেলিম, ফয়সাল ও জিহাদ তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর থেকেই সে নিখোঁজ হয়।
ভুক্তভোগী হারুন মিয়া জানান, ঘটনার পর থানায় এজাহার দিলেও পুলিশ তা নথিভুক্ত করেনি। থানার এসআই দেব লালকে অডিও রেকর্ড ও তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে গত ৭ এপ্রিল/২৬ইং ময়মনসিংহ জেলা শিশু আদালতে মামলা (নং- ৫৫/২০২৬ইং) করেন হারুন মিয়া। আদালত গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দিলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এরই মধ্যে গত ৩ দিন আগে প্রধান আসামি সেলিমের পিতা সদাগর মিয়া কিশোরকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। কিন্তুু আজ পর্যন্ত সে জীবিত না মৃত, তা জানতে পারেনি পরিবারটি।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার এসআই দেব লাল জানান, মামলা নেওয়ার দায়িত্ব তার নয়, সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে ওসি (তদন্ত) মুজাহিদুল ইসলাম জানান, জিডির পর তারা আর আসেনি। তবে কেন মামলা হয়নি তা তাঁর জানা নেই।
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, “আদালতে মামলা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবু আমাদের যা করণীয় তা আমরা করবো।”
![]()

