নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মেধা তালিকায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে পুরো ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে মানবিক শাখায় প্রথম বা সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কৃতি সন্তান মো. অনিক হাসান (সেশন: ২০২৪-২০২৫)। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে আনন্দ ও গৌরবের জোয়ার বইছে তার পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা পুরো নান্দাইল জুড়ে।
মেধাবী এই শিক্ষার্থীর বাড়ি নান্দাইল উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের সুরাশ্রম গ্রামে। তার বাবা মো. আমিনুল হক একজন সাধারণ মৎস্য চাষী এবং মাতা হাসি আক্তার গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে অনিক সবার বড়। মেঝো ভাই মো. পলক মিয়া পঞ্চম শ্রেণীতে এবং ছোট বোন প্রহা মনি দ্বিতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত আছে। অভাবের সংসার ও নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণে অনিকের এই সাফল্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
অনিক হাসানের শিক্ষাজীবনের শুরুটা হয়েছিল কথাসাহিত্যিক ডক্টর হুমায়ূন আহমেদের নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ’ থেকে। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই সে সাফল্যের সাথে এসএসসি সম্পন্ন করে। বর্তমানে সে ময়মনসিংহের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে’ উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত আছে।
নিজের এই সাফল্যের বিষয়ে মো. অনিক হাসান জানান, “আমার এই ফলাফলের পেছনে আমার বাবা-মায়ের অবদানের পাশাপাশি শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দের সঠিক দিকনির্দেশনা ও ভালোবাসা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমি ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশ ও মানুষের সেবা করতে চাই। সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।”
সাধারণ একজন মৎস্য চাষীর সন্তানের এমন গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী ও শিক্ষকসমাজ। সকলের বিশ্বাস, অদম্য মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে মো. অনিক হাসান একদিন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেশের একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
শিক্ষার্থীর বাবা আমিনুল হক জানান, “আমার পেশা মৎস্য চাষ, অনেক কষ্ট করেই সংসার চালাই আর সন্তানদের পড়াশোনা করাই। অনিক ছোটবেলা থেকেই খুব মনোযোগী ও মেধাবী ছিল। পড়ালেখার প্রতি ওর যে গভীর আগ্রহ, তা আমাদের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিত। ডক্টর হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের শিক্ষকগণ ওকে যেভাবে আগলে রেখেছেন এবং সঠিক শিক্ষা দিয়েছেন, তারই প্রতিফলন আজকের এই ফলাফল।
মাতা হাসি আক্তার জানান, ময়মনসিংহ বোর্ডে ট্যালেন্টপুলে সেরা হওয়ার গৌরব সে শুধু আমাদের পরিবারকে দেয়নি, পুরো নান্দাইলবাসীকে গর্বিত করেছে। আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন, ও যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশের সেবা করতে পারে।”
![]()

