নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে এসে চরম অনৈতিকতা ও বিধি-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর)২৬ ইং অত্র মাদ্রাসার সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল হান্নান ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর বিধি-বহির্ভূত এ কর্মকাণ্ডের বিচার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

জানাগেছে, আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল হান্নান হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নং-২৬২/২০২৬) দায়ের করেন। উক্ত রিট নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। তাই পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী গত ২৮ সেপ্টেম্বর/২৬ ইং তারিখে তদন্ত কমিটির আহব্বায়ক ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রোজারার মো. শাহীনুল ইসলাম, কমিটির দুজন সদস্য ডীন মুহাম্মদ গোলাম রাব্বানী ও সহকারী রেজিস্ট্রার বেলায়েত হোসেন আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসায় তদন্ত কাজ পরিচালনা করতে আসেন। তবে তদন্ত শেষে তদন্তকারী দল নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে ঘোষপালা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল হাসান মোহাম্মদ এনামূল হকের (যিনি অভিযুক্তের স্বজন) প্রতিষ্ঠান কক্ষে অবস্থান নেন। সেখানে আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ নূরুল আমিন ও অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক এবং উপজেলা সদর একটি হোটেল আপ্যায়ন গ্রহণ করা হয়। আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সেই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের ছবি পোস্ট করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয় তদন্ত কার্যক্রম।
এ বিষয়ে ঘোষাপালা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও অভিযুক্তের স্বজন আবুল হাসান মোহাম্মদ এনামুল হকের তদন্ত স্থানে উপস্থিতি, নিজ প্রতিষ্ঠানে তদন্ত টিম ও হোটেলে আপ্যায়নের কথা স্বীকার করে জানান, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের টিম আমার প্রতিষ্টান পরিদর্শনসহ ও বৃক্ষরোপন করেছেন।
আচারগাঁও মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নুরুল আমিন একই মত পোষন করে বলেন, তদন্ত শেষে আমি এনামুল হক ভাইকে আমার সাইকেলে করে এগিয়ে দিয়ে আসি এবং বৃক্ষরোপনে অংশগ্রহন করি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রি বেলায়েত হোসেন জানান, আমি তদন্ত কমিটির একজন সদস্য হিসাবে শুধু নির্দেশনা পালন করেছি। আর চাইলে তদন্ত কমিটি পথিমধ্যে যেকোন প্রতিষ্ঠান পরির্দশন করতে পারে।

![]()

