নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে ভুয়া অ্যাপের মাধ্যমে অবিশ্বাস্য লভ্যাংশের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে একটি প্রতারক চক্র। “জেএমজে কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার” নামে অফিস খুলে বসা এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে মূলধন হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার তিন শতাধিক গ্রাহক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে নান্দাইল পৌরসভার সিনেমা হল সংলগ্ন চন্ডিপাশা মহল্লায় এই প্রতারণামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় চন্ডিপাশা ইউনিয়নের কুরাটি গ্রামের ইছমত জাহান তাপসী নামে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে চক্রটি ‘জেএমজে’ (JMJ 168 Ltd AI) নামের একটি অ্যাপের প্রচার-প্রচারণা শুরু করে। তাদের টার্গেট ছিল এলাকার যুবক-যুবতী এবং স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা।
গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে চক্রটি নানামুখী প্রলোভন দেখায়। তারা দাবি করে এই অ্যাপে ৩ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি সপ্তাহে ১৫৪ টাকা, ২৫ হাজার টাকায় ৪৮০ টাকা এবং ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতি সপ্তাহে ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ দেওয়া হবে। বিভিন্ন অংকের বিনিয়োগে এই লোভনীয় সুবিধা অ্যাপের মাধ্যমেই তুলে নেওয়ার (উইথড্র) ব্যবস্থা করা হয়। শুরুতে কিছু গ্রাহককে নিয়মিত লাভের টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ দিয়ে এলাকায় বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে প্রতারক চক্রটি।
পরবর্তীতে আস্থার সুযোগ নিয়ে প্রায় দেড় মাস আগে বাদল দত্তের মার্কেটে ঘর ভাড়া নিয়ে “জেএমজে কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার” নামে একটি জমকালো অফিস স্থাপন করে চক্রটি। সেখানে নিয়মিত সাপ্তাহিক মিটিং ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হতো। অফিস দেখে সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং রাতারাতি গ্রাহক সংখ্যাও জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।
তবে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে গত শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। চক্রটি মূল সার্ভারে সমস্যা হয়েছে বলে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেয় এবং চম্পট দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। পরবর্তীতে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রাহকরা বিস্তারিত জানতে অফিসে গিয়ে দেখতে পান দরজায় তালা। কোনোমতে ভেতর ঢোকার সুযোগ হলেও দেখা যায় ভেতরের যাবতীয় আসবাবপত্র ও মালামাল নিয়ে রাতেই সটকে পড়েছে চক্রটি। চোখের সামনে প্রতারণার এমন রূপ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক জুবায়ের হোসেন, মনির মিয়া ও সুরাইয়া ইয়ামিন জানান, এই প্রতিষ্ঠানে সদস্য হতে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছবির প্রয়োজন হতো না; শুধু নগদ টাকা আর একটি স্মার্টফোন থাকলেই চলত। বড় অংকের টাকা লাভের আশায় বিনিয়োগ করে আজ তারা নিঃস্ব।
এদিকে, ঘটনায় অভিযুক্ত ইছমত জাহান তপসীর ব্যবহৃত ০১৩১১-২৮৭৩৪৫ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেলফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, “এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
![]()

