নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে ৯ বছরের এক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকারের এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের জামতলা বাজার সংলগ্ন হাওলাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রেনু মিয়া (৫০), তিনি ওই গ্রামের মৃত সমেদ আলীর পুত্র। এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার বিচার দাবি করলে উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ও ভিকটিম পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই শিশুটি হাওলাপাড়া গ্রামের জনৈক রাজমিস্ত্রীর সহকারীর ছেলে ও স্থানীয় হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। রোববার (২২ মার্চ) সকালে ওই শিশুটি বাড়ির পাশে জামতলা বাজারে বোতলের ছিপি ও রড কাটার ফেলে দেওয়া চাকতি খুঁজতে যায়। এসময় বাজারের মুনসুরের ওয়ার্কশপে অবস্থানরত রেনু মিয়া শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে দোকানের ভেতর ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয়। ঘটনা শেষে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অভিযুক্ত রেনু মিয়া। এমনকি সে ইতিপূর্বে আরও একটি মেয়ের সাথে এমন কাজ করেছে বলেও শিশুটিকে ভয় দেখায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সোমবার সকালে জামতলা বাজারে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক (দরবার) বসে। তবে অভিযুক্ত রেনু মিয়া হঠাৎ ‘স্ট্রোক’ করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই দরবার ভেঙে যায়।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমরা গরীব মানুষ বলে কি বিচার পাব না? আমার অবুঝ ছেলের সাথে যে অন্যায় হয়েছে, আমরা তার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা ঘটনাটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছি। কিন্তু এখন আমাদের উল্টো ভয় দেখানো হচ্ছে।
ওয়ার্কশপের মালিক মনসুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার রাতে রেনু মিয়া তার দোকানেই ছিল। পরদিন দুপুরে তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার কথা শুনতে পান।
এদিকে অভিযুক্ত রেনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ভাই দুলাল মিয়া বলেন, “রেনু বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমরা মেম্বারসহ সবাইকে অনুরোধ করেছি। প্রয়োজনে রেনু ক্ষমা চেয়ে নেবে।” তবে তার অপর ভাই জালাল মিয়া আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “রেনুর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। যদি রেনুর কিছু হয়, তবে যারা অপবাদ দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেই আমরা মামলা করব।”
এছাড়া অভিযুক্ত রেনু মিয়া বলেন, “আমি ছেলেটি পেয়ে জিজ্ঞেস করেছি, এখানে কি করিস, যা এখান থেকে, ধমকও দেয়নি। অথচ একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে যাচ্ছে এবং সমাজে আমার মানসম্মান ক্ষুন্ন করছে। আমি এর নিন্দা জানাই। আর দোষী হলে আমার শাস্তি হোক”।
নান্দাইল মডেল থানার (ওসি) তদন্ত মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, “ এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল আমাকে অবগত করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করার কথা বলি এবং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার বলি। সোমবার রাতে ভিকটিমের অভিভাবক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

