নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রসুলপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর/২৬ইং) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে রসুলপুর দরবার কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল হক ও মোফাজ্জল হোসেনের সাথে তর্কবির্তক হয়। এসময় মাওলানা শহীদুল্লাহর পুত্র শিক্ষক রুহুল আমিন এবং মোফাজ্জল হোসেন ও আব্দুর রহিমের মধ্যে তর্কবিতর্ক চরম পর্যায়ে পৌছায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এক তমুল সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে রুহুল আমিন ও মোফাজ্জল হোসেন রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষক রুহুল আমিনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। অপরদিকে মোফাজ্জল হোসেন ময়মনিসংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে এ ঘটনায় দুইটি পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে বুধবার (১৪ অক্টেবর) নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।
অভিযোগকারী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মূলত রসুলপুর দরবার শরীফের সামনের জায়গাটুকু মোফাজ্জল হোসেন জোরপূর্বক দখলে নিতে চায়। অথচ দরবার শরীফের হুজুর জীবিত থাকাকালীন ওই জমির পরিবর্তে অন্যত্র জায়গা দিয়ে বিষয়টি সমাধান করে গেছেন। কিন্তুমোফাজ্জল হোসেন তা মানতে রাজি নয়। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষককে মারধরের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে মাদ্রাসার ছাত্ররা।
অপরদিকে, দ্বিতীয় পক্ষের অভিযোগকারী মো. জুয়েল মিয়া জানান, প্রতিপক্ষরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পেত্রিক জমি দখলের পাঁয়তারাসহ অকারণে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে। অন্যত্র জমি দিলেও তা লিখে দেয়নি। ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বসতবাড়ির সামনে এসে অকারণে গালমন্দ শুরু করলে এতে বাধা দেওয়া রুহুল আমিনের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে। শুধু তাই নয় বৃহস্পতিবারও আব্দুর রহিমকে মারধর করেছে, বর্তমানে তিনিও ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
![]()

