[ রক্ত না নিয়েই রক্তের রিপোর্ট প্রদান ]
শাহজাহান ফকির, নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে ক্রস-ম্যাচিং রক্ত পরীক্ষা না করেই টাকার বিনিময়ে রক্ত গ্রহিতার ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ উঠেছে ‘হক ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের একটি বেসরকারি ল্যাবের বিরুদ্ধে। উক্ত ভুয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে শরীরে রক্ত পুশ করার পর তীব্র রিয়্যাকশনে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন মোছাঃ তাইবা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূ। বর্তমানে রোগী ঢাকা উত্তরায় পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ল্যাব কর্তৃপক্ষের বিচার ও লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল পৌরসভার কাকচর গ্রামের মোঃ ওয়াহাব মিয়ার স্ত্রী তাইবা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা) রোগে ভুগছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে তিনি একজন রক্তদাতাসহ নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ‘হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ যান রক্তের ক্রস-ম্যাচিং করানোর জন্য। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তব্যরত টেকনোলজিস্ট রক্তদাতার রক্ত নিলেও, রোগীর শরীর থেকে কোনো প্রকার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেননি। অথচ কিছু সময় পর টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে মর্মে একটি সম্পূর্ণ ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করেন। সরল বিশ্বাসে ওই রিপোর্ট নিয়ে গৃহবধূ নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীরে রক্ত পুশ করার অনুমতি দেন। রক্ত দেওয়া শুরু করার মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় গৃহবধূর শরীরে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (ইষড়ড়ফ জবধপঃরড়হ) শুরু হয় এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেশ কয়েকটি জরুরি ইনজেকশন প্রয়োগ করে দীর্ঘ চেষ্টার পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এ ভুল রিপোর্টের কারণে গৃহবধূ প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা মৃত্যুর মুখোমুখি ছিলেন বলে স্বজনরা জানান। ঘটনার পরপরই রোগীর স্বামী ওয়াহাব মিয়া উক্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে ল্যাব কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীরা তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রায় ৫০-৬০ জন লোকের উপস্থিতিতে হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আজহারুল ইসলাম (আল আমীন) রক্তের নমুনা না নিয়েই ভুয়া রিপোর্ট তৈরির বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে মৌখিকভাবে স্বীকার করেন।
স্থানীয় আলম মিয়া ও জিটু মিয়াসহ আরও অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বেশ কিছু ল্যাব টেকনিশিয়ানদের যোগ্যতা এবং রিপোর্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। ফলে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জীবনঝুঁকিতে পড়ছে।
ভুক্তভোগী তৈয়বা আক্তার চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর স্বামী ওয়াহাব মিয়া বলেন, “হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এই চরম অবহেলা ও জালিয়াতির কারণে আমার স্ত্রী মরতে বসেছিল। তাঁরা তাদের ভূলও স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দেওয়া আছে।
হক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আজহারুল ইসলাম (আলআমিন) ও ফখরুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা ষড়যন্ত্র। এটা মূলত এলার্জির প্রতিক্রিয়া। অহেতুক আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। আমাদের সেন্টারের বৈধতা রয়েছে।
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ডা: শামীমা সুলতানা অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তবে অভিযোগকারীর স্বামীর রিকোয়েস্টে এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

