সংবাদ সম্মেলনেলিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বার সুমন। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক সাম্প্রতিক পরিপত্রের মাধ্যমে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বৈষম্যমূলক দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, “বৃত্তি পরীক্ষা শুধু আর্থিক অনুদান নয়, এটি একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক স্বীকৃতি।”
বক্তারা উল্লেখ করেন যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো দেশের সব শিশুরই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সমান অধিকার থাকা উচিত। কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলে তা তাদের মনোবল ভেঙে দেবে এবং তাদের মধ্যে বৈষম্যমূলক মানসিকতা তৈরি করবে, যা জাতীয় শিক্ষানীতির সাম্য নীতির পরিপন্থী। তারা বলেন, “শিশুদের এই মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সচিবালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে থাকা একটি মহল কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তাদের দাবি মেনে না নেওয়া হয়, তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ঘেরাও এবং ‘মার্চ ফর ঢাকা’-এর মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের জেলা শাখার সভাপতি এটিএম খলিলুল্লাহ শাকিল, পাকুন্দিয়া সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আবদুল হাই মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ বাচ্চু, জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল বাশার নয়ন। এছাড়াও উপজেলার ৮২টি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে, একই দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, শুধু পাকুন্দিয়া নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দাবিতে কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনগুলো মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মতো কর্মসূচি পালন করছে।

