আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক সময়ের কণ্ঠস্বর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হোসেন (২৭) অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার ঠোঁট কেটে রক্তক্ষরণ হয়েছে। হামলার ঘটনায় সাব্বির হোসেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় হাসিবুল হোসেন শান্ত (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ:
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিক সাব্বির হোসেন হাসপাতালের ভেতরে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। দুপুর ১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় হাসিবুল হোসেন শান্ত ও তার ৩-৪ জন সহযোগী হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং দাবি করে যে তাদের বক্তব্য আগে নিতে হবে। সাংবাদিক সাব্বির শান্তভাবে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তার শার্টের কলার ধরে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এতে সাব্বিরের নাক-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় এবং ঠোঁট কেটে রক্ত ঝরতে শুরু করে। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
হামলাকারীর স্বীকারোক্তি ও দুঃখ প্রকাশ:
হামলার পর অভিযুক্ত হাসিবুল হোসেন শান্ত স্বীকার করেন যে, সাংবাদিককে চিনতে না পারায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির পুরনো কমিটিতে কিছু অবিপ্লবী যুক্ত হয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম সাব্বির তাদের লোক। বুঝতে পারিনি যে তিনি একজন সাংবাদিক।”
সদ্য বিলুপ্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে যেকোনো পরিস্থিতিতে সাংবাদিকের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
আহত সাংবাদিকের প্রতিক্রিয়া ও বিচার দাবি:
আহত সাংবাদিক সাব্বির হোসেন বলেন, “সকাল থেকে আমি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত ছিলাম। হঠাৎ করেই তারা আমার ওপর হামলা চালায়। আমি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছি, ঠোঁট কেটে গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। সাংবাদিকদের যদি ন্যূনতম নিরাপত্তা না থাকে, তবে আমরা কিভাবে দায়িত্ব পালন করব? বারবার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে অথচ প্রশাসন নীরব।”
সাংবাদিক মহলের নিন্দা ও দাবি:
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছেন যে, স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকরা দিন দিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ প্রশাসনের পদক্ষেপ:
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, এ অভিযোগের বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এসপি স্যার বিষয়টি জানিয়েছেন। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

