প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের ফুসফুস খ্যাত ব্রহ্মপুত্র নদকে অবৈধ বালু খেকোদের কবল থেকে রক্ষা করতে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নির্দেশনায় বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর উপজেলার কাচারি ঘাট থেকে রহমতপুর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৭টি ড্রেজার মেশিন বিকল করে দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) যৌথ নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জেলা পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সহায়তা প্রদান করেন।
অভিযান চলাকালে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দিয়ে কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না। নদী খননের নামে বালু বিক্রি বা খনন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ব্রহ্মপুত্রের সেই চিরচেনা রূপ, স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও যৌবনের তরঙ্গ ফিরিয়ে আনতে চাই। নদী রক্ষায় এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে, প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ময়মনসিংহের সচেতন মহল। তবে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, কেবল ড্রেজার বিকল করলেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নেপথ্যে থাকা শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের বালু বিক্রির জন্য যাদের ইজারা দেওয়া হয়েছিল, তাদের ইজারার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আইন অমান্য করে তারা এখনো বালু বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, এই অসাধু চক্রটি তাদের ইজারার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জোর লবিং ও তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছে। সিন্ডিকেটের এই তাণ্ডব বন্ধ না হলে ব্রহ্মপুত্রের অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা অবিলম্বে এই অসাধু ইজারাদার ও বালু খেকো চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও নদী দখলকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে নদের অন্যান্য পয়েন্টেও অভিযান জোরদার করা হবে।

