শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে পাকুন্দিয়া পৌর সদরের টান লক্ষিয়া ও হাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শুক্রবার) আয়োজিত একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে টান লক্ষিয়া ও হাপানিয়া গ্রামের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সেই ঘটনার জের ধরে আজ শনিবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এতে পাকুন্দিয়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা অন্তত ১০ থেকে ১৫টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে অবস্থায় রয়েছে।
পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম. আরিফুল ইসলাম সংঘর্ষে আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।

