নিহতরা হলেন- ময়না বেগম (২৫) এবং তার সাত বছর বয়সী মেয়ে রাইসা বেগম ও দুই বছর বয়সী ছেলে নিরব। তারা নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সেনের বাজার গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে রফিকুল ইসলাম তার ছোট ভাই নজরুল ইসলামকে নিয়ে খারুয়ালি এলাকায় ফাইয়ুম মিয়ার দুটি কক্ষ ভাড়া নেন। রফিকুল একটি কারখানায় চাকরি করতেন এবং নজরুল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন।
ঘটনার দিন রোববার রাতে রফিকুল তার কর্মস্থলে ছিলেন। সকালে কাজ শেষে বাসায় ফিরে তিনি বারান্দার গেটে তালা দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি বাসার মালিককে ডেকে আনেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে স্ত্রী ও দুই সন্তানের রক্তাক্ত মরদেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা ও রক্তমাখা বিছানার চাদর জব্দ করা হয়েছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের দেবর নজরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নজরুল জড়িত থাকতে পারেন। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, নজরুলের বিরুদ্ধে গাজীপুরে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। প্রায় আড়াই মাস আগে রফিকুল ইসলাম ৪০ হাজার টাকা ঋণ করে ভাইকে জামিনে মুক্ত করেছিলেন।
স্বামী রফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি সন্ধ্যায় কাজের জন্য বাসা থেকে বের হই। সকালে এসে দেখি আমার সব শেষ। কী কারণে আমার স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করা হলো, আমি কিছুই বলতে পারছি না। আমার ভাইকেও খুঁজে পাচ্ছি না।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ পলাতক নজরুলকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত করছে। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আকতার উল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জানিয়েছেন যে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী রফিকুল ইসলামকে থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: অনলাইন ডেক্স

