নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল (ময়মনসিংহ-৯) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের ঝোড়ো হাওয়ার বিপরীতে ‘ফুলকপি’ প্রতীক নিয়ে পাহাড় সমান লড়াই করেছেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান। নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও এই ফলাফলকে কেবল একটি সংখ্যা হিসেবে দেখছেন না তিনি। তাঁর মতে, মানুষের ভালোবাসা ও জনসমর্থনের যে জোয়ার তিনি পেয়েছেন, তা আদতে কোনো পরাজয় নয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “আমরা হারিনি, হেরেছে নান্দাইলের ভাগ্য” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এভাবেই নিজের ক্ষোভ ও অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তিনি।
জানাগেছে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) একটি নতুন দল। তবে জামায়েতের ১১ দলীয় জোটের একটি বিডিপি। আর বিডিপি’র চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান জামায়েতর সমর্থন পাওয়া নির্বাচনের ভোটের মাঠে একেবারে নতুন ছিলেন। এক সময় তিনি বিএনপি’র কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে জামায়েতে ইসলামীর সাথে আতাত করে নতুন রাজনৈতিক দল হিসাবে বিডিপি গঠন করেন এবং দলটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ‘ফুলকপি’ প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছিলেন।
নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বিডিপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১৫২ ভোট। ৫ই আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে নান্দাইলে বিএনপির একচ্ছত্র আধিপত্যের ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু অ্যাডভোকেট চানের ‘ফুলকপি’ প্রতীকের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা সবাইকে চমকে দিয়েছে। এমনকি চারবারের সাবেক সংসদ সদস্যের স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরীকেও বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে তিনি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল বলেছেন, দীর্ঘ সময় পর ভোটের ময়দানে নেমে মাত্র ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারানো বিএনপির মতো বড় দলের প্রার্থীর জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি অ্যাডভোকেট চানের মতো প্রার্থীর জন্য এটি এক বড় রাজনৈতিক বিজয়। একদিকে ইয়াসের খান চৌধুরী তাঁর পিতার উত্তরাধিকার সফলভাবে বজায় রেখেছেন, অন্যদিকে আনোয়ারুল ইসলাম চান প্রথাগত রাজনৈতিক শক্তির বাইরে নিজের একটি শক্তিশালী ভোটব্যাংক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান ও তাঁর সমর্থকরা বলছেন, “আমরা সীমিত সম্পদে এবং প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করেছি। ৭০ হাজার মানুষের এই রায় প্রমাণ করে যে নান্দাইলের মানুষ পরিবর্তন চায়। এই ভোট আমাদের আগামীর স্বপ্নের ভিত্তি।” নান্দাইলের দ্বিমুখী রাজনীতির সমীকরণে ‘ফুলকপি’ ভবিষ্যতের জন্য অনিবার্য শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলো। পরাজয় মেনে নিলেও ফুলকপি’র এই লড়াকু মানসিকতা এবং ‘পরিবর্তনের ডাক’ ভবিষ্যতে নান্দাইলে জামায়াত সমর্থিত শক্তির অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে পারে।

