নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরকোমরভাঙ্গা গ্রামে পৈত্রিক জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে প্রতিবেশীর বাধার মুখে পড়েছেন মো. শহীদ শিকদার। এতে ভবনের ছাদ ঢালাই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, শহীদ শিকদার তার পৈত্রিক ৪৮ শতাংশ জমিতে একতলা ভবন নির্মাণ করছেন। কাজ শুরুর দীর্ঘ দুই বছর পর ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নিলে প্রতিবেশী আমিরুল শিকদার, হাসিম উদ্দিন ও আরিফ শিকদার গং তাতে বাধা দেন। বর্তমানে ছাদের সেন্টারিং করা রডগুলোতে মরিচা ধরছে এবং কাঠ ও অন্যান্য সরঞ্জাম রোদে-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। নির্মাণাধীন ভবনের কাজ আটকে থাকায় ও মালামাল নষ্ট হওয়ায় পরিবারটি এখন চরম দুশ্চিন্তা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী শহীদ শিকদার বলেন, “কাগজপত্রে তারা জায়গা পেলে আমি ছেড়ে দেব। কিন্তু তারা আমার দলিলাদি না দেখে কেবল গায়ের জোরে বাধা দিচ্ছে এবং মূলত অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পায়তারা করছে।” শহীদ শিকদারের স্ত্রী নার্গিস বেগম ও পুত্র পিয়াস অভিযোগ করেন, তারা শুধু কাজ বন্ধ রাখে নাই, বরং তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এমনকি রাজমিস্ত্রিকে তার সরঞ্জামাদিও নিতে দেওয়া হচ্ছে না।
রাজমিস্ত্রী মোশারফ হোসেন জানান, “দীর্ঘদিন সেন্টারিংয়ের কাঠ ও ভাড়া করা সরঞ্জামাদি আটকে থাকায় ও রডগুলোতে মরিচা ধরায় মালিকের প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হচ্ছে।”
অভিযুক্ত আমিরুল ও হাসিম শিকদার কাজে বাধা দেওয়ার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, শহীদ শিকদার তাদের ৬ ইঞ্চি জায়গা দখল করেছেন। তবে মিস্ত্রির মালামাল আটকে রাখার বিষয়ে তারা বলেন, দরবারিদের (সালিশকারী) নিষেধ থাকায় তারা সরঞ্জাম নিতে দিচ্ছেন না।
চরবেতাগৈর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন জানান, এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। ভবনের দেওয়ালের কিছু অংশ আমিরুলদের জায়গায় পড়েছে। সমাধানের চেষ্টা চললেও দুই পক্ষ একমত না হওয়ায় বিষয়টি ঝুলে আছে।

