মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান।
জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ হোসেন্দী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চলাকালে এক নারীকে যৌন হয়রানি করেন ওই স্বাস্থ্য সহকারী। ঘটনার সময় এক নারী গোপনে অভিযুক্তের অশোভন আচরণের ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সোমবার বিকেলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম “পাকুন্দিয়া প্রতিদিন”সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যসেবার আড়ালে সাধারণ ও অসহায় নারীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করে আসছিলেন। লোকলজ্জা আর ভয়ে এতদিন কেউ মুখ না খুললেও ভিডিওটি প্রকাশের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় যুবসমাজ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলও করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার পর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া যেন দ্রুত শেষ করে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি সেবাকেন্দ্রে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

