তিন বছর আগের থাপ্পরের প্রতিশোধ—
আবু হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় প্রায় তিন বছর আগের একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পূর্বশত্রুতার জেরে সানি (২২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই প্রতিবেশী মফিজুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের হিজলীয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সানি একই গ্রামের কাতার প্রবাসী হাদিউল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হিজলীয়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের পাশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সানির ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, মফিজুলের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে সানির পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। হামলার সময় সানি প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও তার আগেই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সানিকে উদ্ধার করে দ্রুত পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে স্কুলের একটি খেলাকে কেন্দ্র করে সানি ও মফিজুলের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে সানি মফিজুলকে একটি থাপ্পড় মারে। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ ইতোমধ্যে মফিজুলের দুই ভাই—আজিজুল ও নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তারা একই গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে। তবে মূল অভিযুক্ত মফিজুল ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।
পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য একটি ঘটনার জেরে এমন ভয়াবহ পরিণতি কেউ কল্পনাও করেনি। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সময়ের সঙ্গে মিটে যাওয়ার কথা ছিল যে বিরোধ—তা দীর্ঘদিনের ক্ষোভে পরিণত হয়ে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

