ঢাকাবুধবার , ৫ আগস্ট ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কবিতা ও গল্প
  6. কৃষি ও ঐতিহ্য
  7. খেলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. দূর্নীতি
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রশাসন
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর: উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ৫, ২০২৬ ৩:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা । বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর গৌরবময় স্মৃতিকে সংরক্ষণ ও পরবর্তী প্রজন্মের নিকট পৌঁছে দিতে নবনির্মিত ❝জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর❞ উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার (০৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাদুঘরের স্মৃতিফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা, শহীদদের মহান আত্মত্যাগ, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের সময়কার অবর্ণনীয় নির্যাতন ও নির্মমতার সংরক্ষিত নিদর্শনসমূহ পরিদর্শন করেন। জাদুঘরে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক দলিলপত্র, স্মারক, ভিডিওচিত্র ও বিভিন্ন তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তঝরা দিনগুলো, সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ এবং চূড়ান্ত বিজয়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

পরে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রকৃত রূপ তুলে ধরবে।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের ধারা বর্ণনা করে বলেন, “ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে মেনে নিতে পারেনি। এদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এসব ঐতিহাসিক সত্য এই জাদুঘরে সংরক্ষিত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে।”

ইতিহাসের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইতিহাসকে সত্যনিষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। জাদুঘরে শহীদদের পরিচয়, জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন শিল্পকর্মের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরতে হবে, যাতে দেশি-বিদেশি গবেষক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।”

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা হবে। শহীদদের স্বপ্নপূরণে আমরা একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ এবং নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছি।”

গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।”

আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রখ্যাত শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সূত্র: বিগ্রে: শামসুল ইসলাম শামস, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্ঠা।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “norsundanews24” কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।