নিজস্ব প্রতিবেদক : ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৈতৃক সূত্রে ও বন্টন নামা স্বত্তে বুঝে পাওয়া জমি জবরদখল, ভুয়া দলিল সৃষ্টি এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ অনুযায়ী নান্দাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বড় ভাই ভুক্তভোগী মোঃ আনতারুল হক খান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের বিলভাদেরা গ্রামের মৃত আঃ রাশিদ খানের পুত্র আনতারুল হক খান তাঁর খরিদা ও পারিবারিক বণ্টননামা (দলিল নং- ৯১২৮) মূলে মোট ২ একর ৩১ শতাংশ জমির মালিক। এই জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে আদালতের রিভিশন আদেশের (৭৫/১৮ ও ২২৫/১৪) প্রেক্ষিতে গত ২৯ মে ২০১৯ তারিখে নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আনতারুল হক খানকে উক্ত জমি বুঝিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী জানান, জমি বুঝে পাওয়ার পর তিনি সেখানে চাষাবাদের জন্য একটি সাবমারসেবল টিউবওয়েল স্থাপন করে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু গত ১১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে তাঁর আপন ছোট ভাই আজহারুল হক খান ও ভাতিজা ইসাত তুহা তাহফিলসহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে এবং জোরপূর্বক মেশিনসহ জমিটি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মীমাংসার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিবাদী পক্ষ জমি ছাড়েনি। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাদীগণ অত্যন্ত সুকৌশলে তথ্য গোপন করে অন্যের জমি নিজের বলে দাবি করা, ভুয়া নামজারি (খারিজ) করা এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও দরবারীদের উপক্ষো করে তৃতীয় পক্ষের কাছে জমি বিক্রির মতো জালিয়াতি করে আসছেন। বিশেষ করে আনতারুল হক খানের ভাগের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের কাছে দলিল করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী আনতারুল হক খান বলেন, ” আমাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও তারা গায়ের জোরে তা দখল করে নিয়েছে। আমি এখন নিজের জমি হারিয়ে ও প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি নতুন ভূমি আইনের মাধ্যমে এই দখলদার ও প্রতারক চক্রের বিচার এবং আমার জমি ও ফসলের ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।”
অপরদিকে আজহারুল হক খান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা। এছাড়া আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছে, আবার রায় পাবো বলে আশা করি। সে বাড়িতে আসে না। এটাতো আমাদের দোষ নয়। আর আমাদের প্রয়োজনীয় দলিলাদি ও কাগজপত্র আছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেকার মোমতাজ খোকন জানান, বিষয়টি তাদের একান্তই পারিবারিক বিষয়। এরপরেও পক্ষদ্বয়কে দরবার-সালিশের বসার জন্য বারংবার বলা হয়েছে। কিন্তু ছোট ভাই আজহারুল হক খান বসতে রাজি না হওয়ায় সমাধান সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

