[ দুই মাস পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্তে রহস্য উদ্ঘাটনের আশা তদন্তসংশ্লিষ্টদের ]
আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের মরদেহ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের আজলদী গ্রামের সরকার বাড়িতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহানের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। মরদেহ উত্তোলনের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন সাদ্দাম হোসেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. কারিশমা আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালত মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
মরদেহ উত্তোলনের সময় পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি শামছুল হক মিটু, নারান্দী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন সরকার, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

