শাহজাহান ফকির, নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মো. ফয়জুর রহমান তাঁর সততা, স্বচ্ছতা এবং কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তিনি গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সনে নান্দাইলে যোগদান করার পর থেকে উচ্ছেদ অভিযান, বাজার মনিটরিং এবং ভূমি সেবায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর এই সকল কর্মকাণ্ডে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে একজন সৎ, সজ্জন ও পরিশ্রমী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৩৭তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি নান্দাইল পৌরপ্রশাসক হিসাবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি নান্দাইলে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। তবে নান্দাইলবাসীর নিকট থেকে পদোন্নতির কারনে এ মাসের মধ্যে তিনি অন্যত্র বিদায় নিচ্ছেন। উনার সেবায় মুগ্ধ হয়ে নিরন্তর শুভকামনায় বিদায়ী শুভেচ্ছা বার্তা জানাচ্ছেন নান্দাইলবাসী।
ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা: নান্দাইল উপজেলা ভূমি অফিসে একটি জনবান্ধব এবং গতিশীল সেবা প্রদানের লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমাতে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ভূমি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে এবং সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে সহজে ও দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। প্রতি বুধবার শোনানীর মাধ্যমে ভূমির জটিলতা নিরসনে রাত-দিন নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া বেশ কিছু দিন নান্দাইল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার হিসাবেও সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি ৩৬৭টি নামজারী মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করেছেন।
বাজার মনিটরিং ও জনস্বার্থে পদক্ষেপ: ভূমি রাজস্ব আদায় এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি মো. ফয়জুর রহমান নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়ে বাজার অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যার ফলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর উপস্থিতি স্থানীয় বাজারে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে নান্দাইল উপজেলার জনমনে স্বস্তি ফিরে পায় এবং তাঁর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে।
উচ্ছেদ অভিযানে কঠোর ও মানবিক ভূমিকা: ভূমি সেবার পাশাপাশি সরকারি জমি উদ্ধারে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযানে তিনি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এই অভিযানগুলির মাধ্যমে নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি যেমন কঠোর ছিলেন, তেমনি মানবিক দিকটিও বিবেচনায় রেখেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবিও তিনি গুরুত্বের সাথে দেখেছেন বলে জানা যায়।
এক সাক্ষাৎকারে মো. ফয়জুর রহমান বলেন, “সরকারি জায়গাতে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। যদি কেউ পুনরায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে চায় তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা হতে পারে। উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” তাঁর এই দৃঢ় অবস্থান সরকারি সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হয়েছে।
স্থানীয় জনগণ মনে করেন, মো. ফয়জুর রহমানের মতো সৎ এবং কর্মঠ কর্মকর্তারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম এবং জনকল্যাণমূলক কাজ নান্দাইল উপজেলায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করলে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।

