নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলের সৌদি প্রবাসী কামাল উদ্দিন (৪২) নামে এক ব্যক্তি প্রবাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি উপজেলার ১০নং শেরপুর ইউনিয়নের পাঁচরুখী পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র। তাঁর এই অকালমৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে দীর্ঘদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমান কামাল উদ্দিন। বিদেশে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ভালোই চলছিল তাঁর প্রবাস জীবন। মাঝে দুই-একবার ছুটিতে দেশেও এসেছিলেন তিনি। এক ছেলে আরেফিন আরফান (৫), গর্ভবতী স্ত্রী লাভলী আক্তার ও মাতা জুবেদা খাতুনকে নিয়ে সুন্দরভাবেই চলছিল তাঁর সংসার। তবে গত এক বছর ধরে তাঁর শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে দুই মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ বোধ করায় মাত্র দেড় মাস আগে পুনরায় কর্মস্থল সৌদি আরবে ফিরে যান তিনি।
পরবর্তীতে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবে তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কর্মরত কোম্পানির সহায়তায় তাঁকে দ্রুত সৌদিআরবে স্থাপিত জার্মানির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্বামীর অকালমৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে কামালের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও পরিবারের স্বজনেরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।
নিহতের বড় ভাই বাহার উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সে আমার আদরের ছোট ভাই ছিল। বর্তমানে বিদেশ থেকে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।”
ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে স্ত্রী লাভলী আক্তার বলেন, “উনি কিছুদিন আগেই ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। কিন্তু এই ছুটিই যে তাঁর জীবনের শেষ ছুটি হবে তা কে জানত? তিনি খুবই সৎ ও ভালো মানুষ ছিলেন। একবারের জন্য হলেও আমার স্বামীর লাশকে দেখতে চাই”।
শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন মিল্টন প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “কামাল উদ্দিন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।”
![]()

