[ যাচাই-বাছাইয়ে থাকবে তদন্ত কমিটি ]
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। গণঅভ্যুত্থান-উত্তর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর ইউপি নির্বাচনের সুযোগ তৈরিতে প্রস্তুত হচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ভোটের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনাকে ঘিরে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতার জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে দারুণ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তফসিল ও দলীয় প্রতীক না থাকলেও দলীয় সমর্থন পেতে প্রার্থীরা ছুটছেন উপজেলা বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের দ্বারে দ্বারে। মাঠপর্যায়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজারে চলছে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে দিনরাত আলোচনা-সমালোচনা। উপজেলা বিএনপি সূত্র জানায়, ১৩টি ইউনিয়নের বিপরীতে এ পর্যন্ত মোট ১০৪ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছেন। এতে সর্বোচ্চ সিভি জমা পড়েছে শেরপুর (১৩ জন) ও নান্দাইল (১০ জন) এবং সর্ব নিম্ন সিভি জমা পড়েছে মুশুল্লী (৫ জন) ও চরবেতাগৈর (৫ জন)। মোয়াজ্জেমপুর (৯ জন) ও গাংগাইল ইউনিয়নে (৯ জন), বীর বেতাগৈর, চন্ডিপাশা, রাজগাতী, সিংরইল ও জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে ৮জন করে সিভি জমা দিয়েছে। এছাড়া আচারগাঁও ইউনিয়নে (৭ জন), খারুয়া (৬ জন)।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণে জল্পনা-কল্পনা চরমে পৌঁছালেও ত্যাগী ও জনপ্রিয়দেরই মূল প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে উপজেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে তদন্ত কাজ শুরু করবে বলে উপজেলার বিএনপি’র এক বিশেষ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
নান্দাইল উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মো. এনামুল কাদির জানান, “যেহেতু এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না, তাই বিএনপি থেকে কাকে সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে তা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে। আমরা প্রার্থীদের বিগত দিনের ত্যাগ, রাজপথের ভূমিকা, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা এবং দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করব।”
এদিকে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা একজন ক্লিন ইমেজ ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে চান। শুধু দলীয় লবিং নয়, যার সুখ-দুঃখে দেখা মেলে এমন প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে দল এমনটাই প্রত্যাশা তৃণমূল কর্মীদের।
অপরদিকে বেশ কয়েক জন চেয়ারম্যান প্রার্থী দলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জানান, দলের সিদ্ধান্তে যাকে মনোনীত করা হবে, তার পক্ষেই বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করা হবে। তবে জনপ্রিয়তা ও দলের সক্রিয়তা বিবেচনা করে প্রার্থী বাছাই করতে হবে। কেননা দলীয় প্রতীক না থাকায় অশুভ শক্তির আবির্ভাব ও ষড়যন্ত্রকারীরা মাথা ছাড়া দিয়ে উঠতে পারে, তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

