ঢাকারবিবার , ১৭ মে ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কবিতা ও গল্প
  6. কৃষি ও ঐতিহ্য
  7. খেলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. দূর্নীতি
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রশাসন
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

নান্দাইলে ৮২টি স্কুল প্রকল্পের ৩২ কোটি টাকা ফেরত যাওয়ার শঙ্কা: ধুঁকছে শিক্ষা কার্যক্রম

শাহজাহান ফকির, নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ১৭, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়নের ২৪ কোটি টাকার প্রকল্প চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ৮২টি প্রকল্পের অধিকাংশ এখনো নির্মাণাধীন। আগামী মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ না হলে এই বিশাল অংকের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জিপিএস ও পিইডিপি প্রকল্পের আওতায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২টি স্কুল ভবন, ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৪টি প্রধান শিক্ষকের কক্ষ এবং ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হলেও ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে কাজগুলো ঝুলে আছে।

সরেজমিনে জাহাঙ্গীরপুর বালিয়া পুকুর পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ের ভবনের কাজ শুধু পিলারে আটকে আছে। পিলারের রডগুলোতে মরিচা ধরেছে। তোশিবা এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো তা প্রাথমিক পর্যায়ে। একই ইউনিয়নের দেউলডাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৭ লাখ টাকার ভবনের কাজ আড়াই বছর ধরে ইটের গাঁথুনিতে থেমে আছে। প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম আকন্দ জানান, ভবন না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কয়রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভবনের কাজ ৪০ শতাংশ বাকি থাকতেই মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মালামালের দাম বাড়ার অজুহাত দিলেও এলাকাবাসীর দাবি, কাজের গতি অত্যন্ত মন্থর। চন্ডীপাশা মডেল স্কুল ও কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রও একই রকম। অধিকাংশ ভবনে প্লাস্টার, জানালার গ্রিল ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত বরাদ্দ রক্ষা করে স্কুলগুলোর উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হোক। অন্যথায় সরকারের এই বিশাল অংকের অর্থের অপচয় হবে এবং ব্যাহত হবে তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষা।

বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে বসে পাঠদান করতে হচ্ছে। ঠিকাদাররা মাঝেমধ্যে কাজ শুরু করলেও কয়েকদিন পর আবার উধাও হয়ে যান।

নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল বলেন, “আমি যোগদানের পর থেকেই ঠিকাদারদের কাজ শেষ করতে বারবার তাগাদা দিচ্ছি। কিন্তু তারা কথা শুনছেন না। চলতি অর্থ বছর শেষ হওয়ার পথে। কাজ শেষ না হলে নিয়ম অনুযায়ী টাকা ফেরত চলে যাবে। এতে পরবর্তীতে বাকি কাজ সম্পন্ন হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।”

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “norsundanews24” কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।