নুরুজ্জামান আশরাফ, বাজিতপুর প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বলিয়াদী ইউনিয়নের সাগরফেনা গ্রামের দয়াল মিয়া (৩৫) সড়ক দুর্ঘটনায় তার একমাত্র আয়ের উৎস মাইক্রোবাসটি হারিয়ে এখন দিশেহারা। জমানো টাকা এবং ঋণের নয় লক্ষ টাকা দিয়ে কেনা (ঢাকা মেট্রো চ-১৩১৫৭৩) নম্বরের পিকআপ ট্রাকটিই ছিল তার সাত সদস্যের পরিবারের আয়ের অবলম্বন এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২৫ইং বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সাতজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গাড়ির ড্রাইভার গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
দয়াল মিয়া জানান, সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি এবং আহতদের চিকিৎসার খরচ চালানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার পরিবার অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সহায় সম্বল ব্যয় করে একটা গাড়ি কিনেছিলাম, সেই গাড়িটা দুর্ঘটনায় অকেজো হয়ে যাওয়ায় বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। এখন কিভাবে কিস্তির টাকা দেবো সেটাই চিন্তা করে পাচ্ছি না। প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়, কিস্তি দেবো না আহতদের চিকিৎসা করাবো কি করবো বুঝতে পারছি না।”
একই এলাকার ডাঃ মোবারক উল্লাহ বলেন, এই পরিবারটির আয়ের একমাত্র উৎস গাড়িটি দুর্ঘটনায় অকেজো হয়ে যাওয়ায় তারা এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা। তিনি সরকার এবং স্থানীয় বিত্তশালীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যদি তারা দয়াল মিয়ার চিকিৎসায় এবং তার পরিবারকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন, তবে এই অসহায় পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পাবে।
যদি কেউ এই অসহায় পরিবারটিকে সহযোগিতা করতে চান, তাহলে নিচের দেওয়া বিকাশ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন:
বিকাশ নাম্বার: ০১৬৪৪৩৪৭৬৫৬ (সুমাইয়া, দয়াল মিয়ার স্ত্রী)

