শাহজাহান ফকির, নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়নসিংহের নান্দাইল উপজেলার সুরাশ্রম গ্রামে দীর্ঘ ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কারের অভাবে চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সুরাশ্রম হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে দক্ষিণ পাড়ার হাসেন মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি গ্রামের মানুষের চলাচলের মূল পথ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এবং ভারী বর্ষণ ও বাণিজ্যিক যানবাহনের অবাধ চলাচলে রাস্তাটি এখন এলাকাবাসীর জন্য এক মূর্তমান দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তাটির পুরো অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়, যা দিয়ে হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়ে। এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন সুরাশ্রম হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রায় ১০০ জন ছাত্রকে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে, এই ছাত্রদের তিন বেলার খাবার তাদের লজিং বাড়ি থেকে আনতে হয়। ভাঙাচোরা ও কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে খাবার আনা-নেওয়া করতে গিয়ে তাদের অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
গ্রামবাসীরা জানান, রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে প্রায়ই মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। টলি ও টুয়েন্টি গাড়ির মতো ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তার অবস্থা দিন দিন আরও শোচনীয় হচ্ছে।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন সুরাশ্রম ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে প্রবাসীদের আর্থিক সহযোগিতায় সম্প্রতি প্রায় ৬ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তায় রাবিশ (ইটের খোয়া) ফেলা হয়েছিল। তবে এই উদ্যোগ টেকসই হয়নি। টানা বৃষ্টি এবং যানবাহনের চাপে সেই রাবিশ মাটির সঙ্গে মিশে গিয়ে রাস্তার আগের অবস্থাই ফিরে এসেছে। ব্যক্তি বা সামাজিক উদ্যোগ যে এই সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট নয়, তা এখন স্পষ্ট।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই চরম জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোনো কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়েনি। বারবার আবেদন সত্ত্বেও স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল মেম্বার এবং ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান নয়ন মহোদয়ের পক্ষ থেকে রাস্তাটি সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা জানান।
এই পরিস্থিতিতে, গ্রামের সাধারণ মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।
এবিষয়ে উল্লেখিত দুই জনপ্রতিনিধির সাথে তাদের সেলফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


