ঢাকাবুধবার , ২০ আগস্ট ২০২৫
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কবিতা ও গল্প
  6. কৃষি ও ঐতিহ্য
  7. খেলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. দূর্নীতি
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রশাসন
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

পাকুন্দিয়ায় দিগন্ত উন্মোচনকারী এসিল্যান্ড মামুন সরকারের বদলি: সাধারণ মানুষের আক্ষেপ

আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি
আগস্ট ২০, ২০২৫ ২:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় সততা, স্বচ্ছতা এবং কর্মনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বদলি হলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: মামুন সরকার। গত ১১ জুন ২০২৪ তারিখে পাকুন্দিয়ায় যোগদানের পর থেকে মাত্র ১৪ মাসের কর্মকালে তিনি স্থানীয় প্রশাসনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন, যা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন সৎ, সজ্জন ও পরিশ্রমী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৩৮তম ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক কারণে গত ১৯শে আগস্ট ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় বদলির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মো: মামুন সরকার পাকুন্দিয়ায় যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি মাদক, বাল্যবিবাহ, অবৈধ বালু উত্তোলন, পরিবেশ দূষণ এবং সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৭০টির বেশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। তাঁর সময়ে ভূমি অফিসে গতিশীলতা আসে, যার ফলে ৯,৫০০-এর অধিক নামজারি মামলা নিষ্পত্তি হয়। তিনি যখন দায়িত্ব হস্তান্তর করেন, তখন নামজারি মামলার গড় নিষ্পত্তির সময় মাত্র ১৪ দিনে নেমে আসে এবং সরাসরি তার ডেস্কে নিষ্পত্তির গড় সময় ছিল মাত্র ৫ দিন। এছাড়াও তিনি প্রায় ৭০০-এর বেশি মিস মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করেন এবং সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে সরকারের স্বার্থ রক্ষা করেন।

উপজেলা ভূমি অফিসে তিনি ‘সকলের জন্য এসিল্যান্ডের দরজা খোলা’ নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। যেকোনো সেবাগ্রহীতা খুব সহজেই তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারতেন। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন অভিযোগের শুনানি গ্রহণ করতেন, মানুষের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করতেন। তাঁর উদ্যোগে উপজেলা ভূমি অফিসের পরিবেশেরও উন্নয়ন ঘটানো হয়; বাগানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং জনসাধারণের জন্য সুপেয় পানি ও ওজুর সুবিধার্থে টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়।

এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই দায়িত্বে থেকেও তিনি পৌরবাসীকে হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদানে সচেষ্ট ছিলেন। নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, এবং ওয়ারিশান সনদের মতো সেবাগুলো পৌরবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে পেয়েছেন। পৌরসভার নাগরিক দুলাল মিয়া আক্ষেপের সুরে বলেন, “স্যারের মতো মানুষ হয় না, অনেক ভালো লোক। এমন স্যার আর পাব না। পারলে স্যারকে পাকুন্দিয়ায় রেখে দিতাম। স্যারের জন্য অনেক দোয়া।”

পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়নেও তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। বাজারের ড্রেনসহ বিভিন্ন ড্রেন ও রাস্তাঘাট সংস্কার এবং নতুন রাস্তা নির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও তিনি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলের পোশাক বিতরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁর দায়িত্বকালে পৌরসভার ইতিহাসে প্রথম প্রায় ৫০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয় এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া কর আদায় করে পৌরসভার আয় বৃদ্ধিতে তিনি নজির স্থাপন করেন।

পৌরসভার আরেক বাসিন্দা রেহেনা বেগম অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, “স্যার, আপনার হস্তক্ষেপে আমার বাড়ি রক্ষা পেয়েছিল। আপনাকে পেয়ে আমরা ধন্য। আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য অনেক দোয়া রইল।”

এই বদলির খবরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আক্ষেপে জানাগেছে, তাঁর মতো একজন জনবান্ধব ও কর্মঠ কর্মকর্তার বিদায়ে অনেকেই হতাশ। তবে তারা আশা করেন, তিনি নতুন কর্মস্থলেও তাঁর সততা ও কর্মনিষ্ঠার ছাপ রাখবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো: মামুন সরকার বলেন, পাকুন্দিয়াবাসী খুবই আন্তরিক ও প্রশাসন বান্ধব। কর্মস্থলে থাকা আমার সকল স্টাফ সহ পাকুন্দিায়াবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা সার্বিক সহযোগিতা করার কারণেই আমি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথ পালনের চেষ্টা করেছি। এছাড়া পৌর প্রশাসক হিসাবে তৃতীয় শ্রেণীর পৌরসভাকে আরও আধুনিকায়ন করার কিছু প্রস্তাব বাজেটে রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে পৌরবাসীর জীবন-মান আরও উন্নয়ন হবে। পরিশেষে আমি সকলের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।

Loading

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “norsundanews24” কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।