আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত জোবায়ের (২৫) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে উপজেলার চড় পলাশ গ্রামে নিহত জোবায়েরের পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের বড় ভাই মো. নাজমুল হাসান। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জোবায়েরের নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র এলাকাবাসীকে শোকাহত ও মর্মাহত করেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে তদন্তের প্রতিটি তথ্য যথাযথ যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীলভাবে উপস্থাপনের দাবি জানানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে রানা নামের এক ব্যক্তিকে নিহত জোবায়েরের মামাতো ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরিবারের দাবি, তিনি জোবায়েরের কোনো আত্মীয় নন; বরং জোবায়েরের প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই এ ধরনের তথ্য প্রচার করায় নিহতের সামাজিক মর্যাদা ও পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হওয়ায় পরিবারটি চরম মানসিক কষ্টের মধ্যে রয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে নিহত ব্যক্তিকে ঘিরে বিতর্কিত বা অসমর্থিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। একজন নিহত ব্যক্তি নিজের পক্ষে কথা বলার সুযোগ পান না বিধায় এ ধরনের তথ্য প্রকাশে সর্বোচ্চ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— জোবায়ের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিহত ব্যক্তির সম্মানহানিকর বা বিতর্কিত তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকা এবং পুলিশের প্রকাশিত তথ্যে কোনো অসংগতি থাকলে তা পুনর্মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
এছাড়া নিহতের পরিবারকে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ বক্তব্যে বক্তারা বলেন, “এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়। এটি একজন নিহত মানুষের ন্যায়বিচার, সত্য প্রতিষ্ঠা এবং একটি অসহায় পরিবারের কান্নার প্রতিধ্বনি।” তারা রাষ্ট্র, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোবায়ের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত জুবায়েরের ভাই নাজমুল হাসান সুমন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বাবা আলতাফ উদ্দিন, মা নারগিস বেগম, স্ত্রী ছনিয়া বেগম, ভাই জুনায়েদসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুখিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান শামীম, স্থানীয় সমাজসেবক সুলতান ফকির এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

