নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় আজ(২৬ নভেম্বর) বুধবার বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষে নারি পুরুষসহ ৭ জন আহত হয়েছে।এ সময় একপক্ষ অন্যপক্ষের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুরসহ একটি সিএনজিরও ক্ষতিসাধন করেছে। খবর পেয়ে নান্দাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বুধবার সকালে উপজেলার চন্ডীপাশা ইউপির মধ্য বাশহাটী গ্রামে গিয়ে জানা যায় ওই গ্রামের সুজন মিয়ার ও তার ভাইদের কাছ থেকে ৩০বছর পূর্বে কিছু জমি কেনেন প্রতিবেশি আব্দুল জলিল,ছোবহান,আব্দুল্লাহ গংরা। সেই জমি তারা ভোগদখলও করে আসছে। কিন্তু ক্রেতারা সেই জমির পাশে থাকা বিক্রেতা সুজনদের ২৩ শতক জমিও নিজেদের দখলে নিয়ে ভোগ দখল করে আসছে। ২৩ শতক জমি ফেরত পাবার আশায় গ্রামে একাধিক শালিস বৈঠক হলেও কোন মিমাংসা হয়নি।এবছরও ক্রেতা জলিল গংরা দখলে রাখা ২৩ শকত জমিতে আমন ধান রোপন করেন।
ধান পাকা অবস্থায় গত রোববার(২৩ নভেম্বর)স্থানীয় ভাবে পুনরায় একটি শালিস বৈঠক হয়।সেই বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধ মিমাংসার লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত হয় ওই ২৩ শতক জমি সুজন মিয়ারাই ভোগ দখল করবে। শালিসকারীরা জমির কতটুকু অংশের পাকা ধান কেটে নেবে সেই সীমানাও নির্ধারন করে দেয়। মঙ্গলবার শালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি সুজন মিয়া’র লোকজন নিয়ে ওই জমিতে ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষরা বাধা প্রদান করে।এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষরা লাঠিসোঁঠা নিয়ে ধান কাটারত লোকজনের উপর হামলা চালায়।
এ সময় প্রান বাঁচাতে সুজন মিয়া ও তার লোকজন দৌড়ে পাশের সুজনের চাচাত ভাই রহিমুদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু প্রতিপক্ষরা সেখানে গিয়েও হামলা চালিয়ে রহিমুদ্দিনের বাড়ি ঘরের ক্ষতিসাধন করার পাশাপাশি একটি সিএনজিও ভাংচুর করে।মারধরে মিজান,শাহিনা,রহিমুদ্দিন, নূরজাহান আহত হয়।আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রহিমুদ্দিন জানান,প্রতিপক্ষরা তাদের জমি দখলে নিয়ে সেখানে একটি দলের অফিস ঘর বানিয়ে এতদিন তাদের উপর জুলুম করেছে। সংঘর্ষের সময় সেই ঘরটি প্রতিপক্ষ নিজেরাই ভাংচুর করে তাদের(সুজনদের) উপর দোষ চাপাচ্ছে।
বক্তব্য জানতে সুজন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগম বলেন,শালিসের সিদ্ধান্ত লোকজন ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ি লাঠিসোঁঠা নিয়ে আমাদের লোকজনের উপর হামলা চালায়।
জলিলের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি,শ্যালক রফিকুল ইসলাম জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি ৩০ বছর পূর্বে তারা খরিদ করে ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু বিএসআর রেকর্ডের সময় সেটি ভূলক্রমে তাদের (প্রতিপক্ষের) নামে রেকর্ড হয়ে যায়। আজ(বুধবার)তাদের খরিদ করা ওই জমির ধান কেটে নিতে আসলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষরাই তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় তার বোনজামাই জলিল সহ লাকি ও অন্য একজন আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিপক্ষের কোন অভিযোগেরই সত্যতা নেই । তিনি আরও জানান,তারা তাদের ক্রয় করা জমিতেই দোকানঘর তৈরী করে ব্যবসা করে আসছেন।সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষরা সেই দোকান ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে।
জানতে চাইলে নান্দাইল মডেল থানার অফিসার-ইনচার্জ(ওসি)খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন।এখন পর্যন্ত কোনপক্ষই কোন অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

