নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরভেলামারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। প্রতিদিন টি-টুয়েন্টি গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে লক্ষ লক্ষ টাকার বালু পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে অবিলম্বে উক্ত বালু মহালটি সরকারিভাবে নীলাম ডাক বা ইজারা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে জানা যায়, চরভেলামারী এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রতিদিন শত শত ট্রলি ও টি-টুয়েন্টি গাড়িতে করে বালু নিয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার অভিযান চালালেও ধরাছোঁযার বাইরে থাকে বালু খেকো চক্রটি।
এদিকে, অবৈধ বালু উত্তোলনের গোপন সংবাদ পেয়ে শনিবার (৪ঠা এপ্রিল) নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং নান্দাইল থানার এসআই পলাশসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযানে সাময়িকভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও তারা চলে যাওয়ার পর পুনরায় কাজ শুরু হয়। তাই এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য দ্রুত বালু মহালটি নীলাম বা ইজারার আওতায় আনা জরুরি। এতে একদিকে যেমন অবৈধ বালু পাচার বন্ধ হবে, অন্যদিকে সরকার প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে।
অভিযান প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌছানোর পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি৷ স্থানীয় কৃষকদের জিজ্ঞাসা করলে তারাও জানায় সাম্প্রতিক সময়ে কোন গাড়ি বা ট্রাক তারাও দেখেন নি৷
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাত বলেন, “চরভেলামারীতে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সেখানে টিম পাঠানো হয়েছিল। তবে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। জনস্বার্থে এবং সরকারি রাজস্ব রক্ষায় আমাদের এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

