নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে মুরশিদা আক্তার শিমু নামে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূ ও তাঁর তিন সন্তান নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাই আলামিন হক রাসেল বাদী হয়ে ওই গৃহবধুর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নান্দাইল মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকার মৃত মোখলেছুর রহমান বাচ্চুর মেয়ে মুরশিদা আক্তার শিমুর সাথে প্রায় ১০-১২ বছর আগে নান্দাইলের গাংগাইল ইউনিয়নের মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের বিয়ে হয়। শিমু জন্মগতভাবেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তাঁদের সংসারে ১০ বছরের একটি মেয়ে, ৮ বছরের একটি ছেলে এবং মাত্র ৬ মাস বয়সী একটি দুগ্ধপোষ্য শিশু কন্যা রয়েছে।
বাদী মোঃ আলামিন হক রাসেল তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ৩-৪ মাস ধরে তুচ্ছ পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিবাদীরা তাঁর বোন শিমুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় শিমুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিট করা হয় বলে খবর পান তিনি। পরদিন ১৪ এপ্রিল বিকেলে রাসেল তাঁর আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে বোনের শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেখানে বোন ও ভাগ্নে-ভাগ্নিদের কাউকে খুঁজে পাননি। তাঁদের খোঁজ জানতে চাইলে স্বামী উজ্জ্বল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে রাসেল ও তাঁর সঙ্গীদের গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন।
বাদীর আশঙ্কা, বিবাদীরা তাঁর বোন ও সন্তানদের মারপিট করে কোনো অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রেখেছে। এ ঘটনায় স্বামী মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ আরো চারজনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অপরদিকে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত মঙ্গলবার স্বামীর সাথে রাগ করে কাউকে না বলে তিন সন্তানসহ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। প্রায়ই রাগ করে বাপের বাড়িতে চলে যায়, পরে আবার ঠিকঠাক হয়ে যায়। কিন্তু বাপের বাড়িতে না যাওয়ায় আমরাও মাইকিং করে ও ছবি ছাপিয়ে সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখন তাঁর পরিবারের লোকজন মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরছে।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজহারুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

