আবু হানিফ স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় প্রতিবন্ধী ও অসহায় রোগীদের সহায়তায় ব্যতিক্রমধর্মী এক মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দরিদ্র ও, শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের মাঝে হুইল চেয়ার ও টিউবওয়েল বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ জালাল উদ্দিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রূপম দাস। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। এতে করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পায় এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন সহজ হয়।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এস. এম. আরিফুল ইসলাম। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকদের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব মাওলানা শফিকুল ইসলাম রুহানী, প্রভাষক (আরবী), তারাকান্দি ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা। তিনি তাঁর বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মোট ২০টি হুইল চেয়ার ও ২৫টি টিউবওয়েল উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। হুইল চেয়ার পেয়ে অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাদের চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে টিউবওয়েল পেয়ে বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর হওয়ায় উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
“ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদ বাংলাদেশ”-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি শেষে উপকারভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ আকারে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে।

