নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের সংগ্রামকালী গ্রামের এতিম যুবক ইমরান হোসেন গত ১৮ জুলাই/২৪ইং রাজধানীর উত্তরা আজিমপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। এসময় তাঁর শরীরে ২০০ ছিটাগুলিবিদ্ধ হয় ও গুলিতে তাঁর ডান চোখটি হারায়। বর্তমানে তিনি ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন আছেন। কিন্তু সুস্থ হতে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে যাওয়া প্রয়োজন। এ জন্য সমাজের বিত্তবান ও সরকারি সহায়তার সুদৃষ্টি কামনা করছেন ইমরান হোসেন।
জানাগেছে, ইমরান হোসেন একজন এতিম যুবক। তার বাবা মৃত কাশেম এবং মা মৃত নুরনাহার বেগম দুজনেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। টঙ্গী মনোয়ারা আইডিয়াল এন্ড স্কুল থেকে এস.এস.সি পাস করে। পরবর্তীতে গাজীপুর টঙ্গি কলেজে ভর্তি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এর পুর্বেই ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন দেশের এক সুন্দর আগামীর আশায় মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশের একটি বুলেট তার জীবনকে চিরতরে অন্ধকার করে দেয়। পুলিশের গুলিতে তার ডান চোখটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, সারা শরীরে বিঁধে আছে ২০০টিরও বেশি ছিটা গুলি (পেলেট), যা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে অসহ্য যন্ত্রণায় হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন এই তরুণ।
জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির এই যোদ্ধার চোখে এ পর্যন্ত ১২টি অপারেশন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো তার চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে থাকা ২০০টিরও বেশি পেলেট বের করা একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এজন্য আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তার স্বাস্থ্য কার্ড নম্বর ৩২০৬৩। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে চলার মতো একটি কর্মসংস্থান বা সহায়তার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।
জুলাই যোদ্ধা ইমরান হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি এতিম, আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। দেশের জন্য চোখ দিয়েছি, শরীরে ২০০ গুলি নিয়ে দিন-রাত যন্ত্রণায় ভুগছি। আমি সরকারের কাছে জোর অনুরোধ করছি, আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক। আমি আবার সুস্থ হয়ে বাঁচতে চাই।”
সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেতে ইমরান হোসেনের ব্যক্তিগত ০১৭৮০-৮৩২০৭৬ নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

