নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় সেচ সংযোগের আড়ালে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাশেঁর খুটি দিয়ে ফিশারিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের বিয়ারা গ্রামে প্রায় ১২০০ ফুট দূরে ‘লুচ’ তার দিয়ে নেওয়া হয়েছে এই সংযোগ। এছাড়া অনুমোদিত সেচের স্থানে নামমাত্র বোডিং দেখিয়ে অদূরে বাশেঁর খুটি দিয়ে অবৈধ লুচ লাইনের মাধ্যমেও সেচ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ যেন এলাকাবাসীর ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সরজমিন সূত্রে জানা যায়, বিয়ারা গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে মো. সুজন মিয়া (হিসাব নং- ৮০১-১০৩৩) তার নামে একটি সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ করেন। কাগজে-কলমে ৫ ফুট বোডিং দেখিয়ে এই সেচ সংযোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে তা ভিন্ন। তিনি অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে লুজ তারের মাধ্যমে অবৈধ আরেকটি বোডিং স্থাপন সহ ১২০০ ফুট দূরে অবস্থিত একটি ফিশারিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করছেন। দীর্ঘ এলাকাজুড়ে অত্যন্ত নিচু, ঢিলেঢালাভাবে (লুচ তার) ও জোড়তালি তারে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার ফলে পথচারী ও কৃষকরা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগকারী মো. সেলিম মিয়া জানান, অবৈধ এই সংযোগের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী এবং তিনি দ্রুত এই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানান।
সেচ পাম্পের মালিক সুজন মিয়ার ভাই মিলন মিয়া বাশেঁর খুটি দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহারের কথা স্বীকার করে বলেন, মুল পাম্পটি নষ্ট হওয়ায় নতুন পাম্পে সংযোগ দিয়েছি। তবে ফিশারীতে অবৈধ লাইন সংযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন তা কেটে দিবেন। কিন্তু ফিশারীতে বিদ্যুত লাইন ব্যবহারকারী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে চাকুরীর পরিচয় দিয়ে জাহিদুল বলেন, শুধু আমার লাইন নয়, আশেপাশে এরকম আরও অনেক লাইন আছে, কাটলে সে লাইনগুলোও কাটতে হবে।
এ বিষয়ে নান্দাইল জোনাল অফিসের ডিজিএম পার্থ চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি আমারা জানা নেই। তবে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নান্দাইল উপজেলা সেচ প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাত বলেন, এরকম অবৈধ সেচ লাইন চালানোর কোন সূযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

