নিজস্ব প্রতিবেদক : ময়মনসিংহের নান্দাইলে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের ডাংরী নামক স্থানে যত্রতত্রভাবে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার বর্জ্য সহ বিভিন্ন স্থানের বর্জ্য।
এ যেন কড়ার উপর মরার ঘা। কেননা সেখানে প্রতিদিন পৌরসভার বর্জ্য ফেলায় তা বিশাল ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে । কিন্তু সেই সুবাদে বিভিন্ন ডিমের হ্যাচারী ও মুরগির ফার্মের মরা মুরগী, বিষ্ঠা, পঁচা ডিম ও খোলস সহ পঁচা মাছ -মাংসের বর্জ্য বস্তায় ভরে মহাসড়কের পাশে যত্রতত্রভাবে ফেলা হচ্ছে। এতে প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
পাশাপাশি মাংস বিক্রেতা মানে কসাইগনও গুরুর রক্ত, মল-মুত্র সহ অন্যান্য বর্জ্য এখানেই এনে ফেলছেন। হ্যাচারী ও মুরগির ফার্মের মালিকগণ তারা বর্জ্যের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা না করে মহাসড়কের পাশে যেনতেন ভাবে ময়লা ফেলায় পরিবেশ আরও চরম হুমকির মুখে। মহাসড়কের পাশে এভাবে ময়লা ফেলার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী ও যাত্রী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সুনির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সরকারি জায়গায় এলোপাথারি ময়লা ফেলা হচ্ছে। এসমস্ত বর্জ্য পচে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
বিভিন্ন যানবাহন চালক, পথচারী ও যাত্রীসাধারণ তারা তাদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান যে, পৌরসভার বর্জ্য ফেলায় এতোটাও গন্ধ ছড়ায় না যতটায় ছড়ায় হ্যাচারী ও মুরগির ফার্মের বর্জ্যে। তাদের ধারণা রাতের আধারে হ্যাচারী ও মুরগির ফার্মের লোকজন এখানে বস্তাবন্দি ময়লা ফেলে চলে যায়।
তবে হাইওয়ে পুলিশ বিষয়টি তদারকি করলে সেখানে পৌরসভার বাইরের ময়লা ফেলা বন্ধ করা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া নান্দাইলের ডিমের হ্যাচারী ও মুরগির ফার্মের মালিকগণের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি না করার কারণে আইনানুগ যেকোন ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে, তাহলেই তা বন্ধ হবে, পরিবেশও রক্ষা হবে।
স্থানীয় সিএনজি চালক শাহআলম ও ইজিবাইক চালক রাসেল সহ আরও অনেকে বলেন, পৌরসভার গাড়ীগুলো প্রতিদিনই বর্জ্য ফেলে চলে যায়। এমনটা চলছে গত কয়েক বছর ধরে। কিন্তু কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, পৌরসভার নির্দিষ্ট ময়লার ভাগাড় না থাকায় সড়ক ও জনপথের সরকারি জায়গা ময়লা ফেলা হচ্ছে। তবে ময়লার দূর্গন্ধ যাতে না ছড়ায় সেজন্য সেখানে খুব দ্রুতই পরিবেশগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

