নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন বাঁচাতে বং তার পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইলের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং তার সহধর্মিণী মিসেস ইশরাত শামস মলি।
জানাগেছে, নান্দাইল উপজেলার ৩ বছর বয়সী শিশু তাকরিম, যে দীর্ঘদিন ধরে ‘লিভার সিরোসিস’ ও ‘গ্লুকোজ স্টোরেজ ডিজিজ’ (Glucose Storage Disease) নামক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে, তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন এই মহৎপ্রাণ দম্পতি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশু তাকরিমের লিভার সিরোসিসের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব ছিল। অসহায় পরিবারটি যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিষয়টি নজরে আসে ‘ইসহাক রওশন ফাউন্ডেশন’-এর কর্ণধার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং তার সহধর্মিণী ইশরাত শামস মলির।
ইতোমধ্যেই শামস দম্পতির উদ্যোগে তাকরিমের সুচিকিৎসা শুরু হয়েছে। গত ১২ মে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্যানেলের তত্ত্বাবধানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে শিশুটির চিকিৎসা চলমান রয়েছে। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পরামর্শ অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে খুব দ্রুত ভারতে পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে ফাউন্ডেশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
এছাড়া শনিবার (১৬ মে) ইশরাত শামস মলি তিনি শিশু তাকরিমের বাড়িতে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নেন। এসময় এই মানবিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত ছিলেন নান্দাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র এএফএম আজিজুল ইসলাম পিকুল।
এ বিষয়ে শিশু তাকরিমের পরিবারসহ স্থানীয়রয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, “সত্যিকারের নেতৃত্ব কেবল কথায় নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবিক কাজের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। শামস মহোদয় ও তার পরিবার অসহায় একটি শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।”
ইসহাক রওশন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আমরা বিশ্বাস করি একটি শিশুর জীবন বাঁচানো মানে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎকে বাঁচানো। মানবতার এই যাত্রায় আমরা শিশু তাকরিমের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করছি।”
বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন মহতী উদ্যোগ সমাজের অসহায় মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


