নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টিআর, কাবিখা, কাবিটা) অর্থে আমূল পরিবর্তন এনে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে টিআর বরাদ্দের টাকায় গ্রামীণ মাটির রাস্তার সংস্কার নয়, বরং অস্বচ্ছল, অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য টেকসই ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ঈদ পরবর্তী গেলো শুক্রবার রাতে নিজ নির্বাচনী এলাকা নান্দাইলের বাহাদুরপুরস্থ নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গ্রামীণ রাস্তা বা মাটির বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রকল্পভিত্তিক যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাতে অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ কাজ হয় না। একই রাস্তায় বারবার বরাদ্দ দেওয়ায় সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে। তাই এই অপচয় রোধে আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। টিআর-এর টাকা দিয়ে আমরা অসহায় মানুষের মাথার গোঁজার ঠাঁই হিসাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে দিবো।
এছাড়া টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “কাবিখা ও কাবিটার টাকা দিয়ে গ্রামীণ রাস্তাকে তিনটি ধাপে পাকাকরণ করা হবে। প্রথমবার মাটির কাজ বা সংস্কার, দ্বিতীয় ধাপে ইটের সলিং এবং তৃতীয় ধাপে তা পাকাকরণ করা হবে। এতে সরকারের সীমিত বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং উন্নয়নও দীর্ঘস্থায়ী হবে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিজের এলাকাতেও তা চালুর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “কোনো টেন্ডারের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুরু বা শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।”
সভায় নান্দাইলে কর্মরত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সত্য প্রকাশে আপনারা কাজ করেন, তাই আপনাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি নান্দাইলে একটি আধুনিক ‘সাংবাদিক কমপ্লেক্স ভবন’ নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দের আলোচনা করেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নত প্রশিক্ষণের আশ্বাস দেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএনপি সবসময় সাংবাদিক-বান্ধব দল। আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে আমাদের নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা দক্ষ সাংবাদিক গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ এবং অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করব।”
উক্ত মতবিনিময় সভায় নান্দাইলে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

