নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নে মাত্র দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এখন চারটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়। বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ চললেও রাস্তাটির উন্নয়নে কেউ এগিয়ে আসেনি। যুগ যুগ ধরে অবহেলিত এই রাস্তাটির সংস্কার ও পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আচারগাঁও ইউনিয়নের ধরগাঁও বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে ধরগাঁও উকুন্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কামালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে পার্শ্ববর্তী মুশুল্লী ইউনিয়নের সরকারবাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টিতেই ধরগাঁও উকুন্দিপাড়া, বিলপাড়া, ব্যাপারীপাড়া ও ধরগাঁও খালপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষকে হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। রাস্তায় খানাখন্দ আর পিচ্ছিল কাদার কারণে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি কিন্ডারগার্টেন ও একটি মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। প্রায়ই শিক্ষার্থীরা পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও ইউনিফর্ম নষ্ট করে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় এই এলাকার কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত মারাত্মকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারেন না, আবার অসুস্থ রোগী কিংবা প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে হলে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়।
মালয়েশিয়া প্রবাসী আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জানান, “ভোটের সময় প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু নির্বাচনের পর আর কারো দেখা পাওয়া যায় না। আমরা এই অভিশপ্ত রাস্তা থেকে মুক্তি চাই। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন জোয়ারে আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? আমরা আমাদের স্থানীয় এমপি ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. খোকন মিয়া বলেন, “রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং এটি আইডিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আপাতত চলাচলের সুবিধার্থে কিছু জায়গায় ইটের সুরকি বা রাবিশ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
আচারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ভূইয়া রেণু জানান, “রাস্তাটিতে ইতিপূর্বে দুইবার মাটি কাটা হয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাটি ধুয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ যদি একটু সহযোগিতা করে বিষয়টি তথ্য প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে অবগত করেন, তবে দ্রুত ইটের সলিং বা পাকাকরণ সম্ভব হবে।”

