নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে ছুটিতে এসে অনৈতিক কাজে নারীসহ মোজাম্মেল হক নামে এক সেনাসদস্য জনতার হাতে আটক হয়েছেন। অত:পর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগীতায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রফাদফা শেষে পরকিয়ায় যুক্ত ওই সেনা সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বীরবেতাগৈর ইউনিয়নের বীরকামটখালী গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে প্রবাসীর স্ত্রী ও সেনা সদস্য মোজাম্মেল হক দুজনই পলাতক রয়েছে।
জানাগেছে, সেনাবাহিনীতে কর্মরত জনৈক সৈনিক মোজাম্মেল হক বীরকামটখালী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুল কদ্দুছের পুত্র। তিনি এক সন্তানের জনক। অথচ ছুটিতে এসে একই গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী তিন সন্তানের জননীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি স্থানীয় যুবক ও এলাকাবাসীর নজরে এলে রোববার রাত ১২টার দিকে আপত্তিকর অবস্থায় ওই সেনা সদস্যকে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে রাতভর আটক করে রাখে। পরদিন সকালে গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী মাতব্বর ও বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন, আ: মতিন, মোতালেব ও আব্দুস সালাম মন্ডল সহ আরও কয়েকজন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জোরপূর্বক মোজাম্মেলকে ঘটনাস্থল থেকে ছাড়িয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ওই সেনা সদস্যকে আটকের সময় তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য যুবকদেরকে ৫০ হাজার টাকাও অফার দিয়েছিল। যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। কিন্তুু স্থানীয় মাতাব্বর দুই লাখ টাকার দফারফা করে তাকে ছেড়ে দেয়। এরকম বিচারকার্য সামাজিক বিচার প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলবে এবং স্থানীয়ভাবে আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে মনে করছে সুশীল সমাজের অভিজ্ঞ মহল। বিশেষ করে টাকার বিনিময়ে দোষী ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সাথে, অভিযুক্ত সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
এলাকার প্রভাবশালীদের ভয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানান, ওই সেনা সদস্যকে হাতেনাতে আটক করার সময় আটককারীদেরকে কিছু টাকার লোভ দেখালেও তারা তাকে ছাড়েনি। বিয়ষটি ওই রাতে স্থানীয় মাতাব্বরদের অবগত করলে তাঁরা তাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। যা খুবই লজ্জাজনক বিষয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব আব্দুস সালাম মন্ডল জানান, খবর পেয়ে আমি রাত ৩টায় ওই ছেলেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। তবে পরকিয়া সম্পর্কে আমরা কোন সততা পায়নি। টাকার বিনিময়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে কোনকিছু হয়েছে কি না ? তা আমার জানা নেই।
অপরদিকে অভিযুক্ত সৈনিক মোজাম্মেল হকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর সেলফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

