মো. শাহজাহান ফকির, নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে দীর্ঘ আড়াই যুগের পর ফিরে এলো সেই পুরনো স্মৃতি। ১৯৯১ সালে বাবা যে আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই একই আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে অভিষেক হয়েছেন ছেলে ইয়াসের খান চৌধুরী। নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছেন।
আড়াই যুগ পর বাবার আসনে ছেলের এই বিজয়ে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী সহ নান্দাইলবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, একজন উচ্চশিক্ষিত ও আধুনিক মনস্ক নেতা পেয়ে নান্দাইলের সার্বিক উন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার হবে। যেহেতু ইয়াসের খান চৌধুরী একজন তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ, তাই সংসদে তাকে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসাবে দেখার দাবি জানায় নান্দাইলবাসী।
জানাগেছে, ইয়াসের খান চৌধুরীর পিতা প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ছিলেন নান্দাইলের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং স্বাধীনতার সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর একান্ত সচিব ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সর্বশেষ ১৯৯১ সনে নান্দাইল আসন থেকে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর বাবার উত্তরসূরী হিসাবে ইয়াসের খান চৌধুরী পেশায় একজন খ্যাতিমান তথ্য ও প্রযুক্তি বৈজ্ঞানী। দীর্ঘদিন লন্ডনে বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়ার পরও নাড়ির টানে দেশে ফিরে আসেন এবং বাবার আদর্শ ধারণ করে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হন। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে কর্মীদের আস্থা অর্জন করায় বিএনপি তাঁকে মনোনয়ন প্রদান করে। তাই আইটি জগত থেকে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নেমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভ করে সংসদ সদস্য হিসাবে বাবার আসনে অভিষেক হয়েছেন।
বিজয়ী হওয়ার পর ইয়াসের খান চৌধুরী আবেগাপ্লুত অবস্থায় বলেন, “আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমি যেন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের মানুষের সেবা করি। আমি ছোটবেলা থেকে বাবার মানবিক রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা দেখেছি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নান্দাইলের মানুষ আমাকে যে আমানত দিয়েছে, তার মাধ্যমে আমি বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই। নান্দাইলকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”

