নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাথি মেরে স্ত্রী জেবিন আক্তারকে (৩০) ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে। শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের বনগ্রাম চৌরাস্তা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত জেবিন আক্তার উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের মেয়ে। আটক দুলাল মিয়া একই ইউনিয়নের সংগ্রামখালী গ্রামের বাসিন্দা। তাদের ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফেরা দুলাল মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রী জেবিনের পারিবারিক কলহ চলছিল। দুলাল মিয়া গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে জেবিন সন্দেহ করতেন। এই বিষয় নিয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও তাদের মধ্যেকার বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি।
শনিবার দুপুরে দুলাল মিয়া পরিবারের কাউকে না জানিয়ে পুনরায় বিদেশে যাওয়ার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। খবর পেয়ে জেবিন আক্তার তার দুই সন্তানকে নিয়ে গফরগাঁও থেকে স্বামীকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনছিলেন। অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে বনগ্রাম চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত গাড়ি থেকে দুলাল তার স্ত্রী জেবিনকে লাথি মেরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই জেবিনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা দুলালকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুলাল মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার স্ত্রী সন্দেহ করত আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। আমি বিদেশ যাচ্ছিলাম, ওরা আমাকে গফরগাঁও থেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনে। এরপর চলন্ত গাড়ি থেকে ও নিজেই পড়ে গেছে, আমি লাথি মারিনি।”
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, “লাথি মেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী দুলালকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

