আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি:-শীতের সকালে চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠতেই কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের অলিগলিতে ভেসে উঠছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজপথের উত্তাপ এখন পৌঁছে গেছে চায়ের দোকানের বেঞ্চে। কে হবেন আগামী দিনের কাণ্ডারি—এই প্রশ্নেই মুখর সাধারণ মানুষ।
পাকুন্দিয়া থেকে কটিয়াদী—প্রায় প্রতিটি চায়ের দোকানে আলোচনার মূল বিষয় ভোট, প্রার্থী ও সম্ভাব্য ফলাফল। সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা একটাই—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, যেখানে তারা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
পাকুন্দিয়া পৌর বাজারের চা বিক্রেতা ওমর ফারুক বলেন,
“অনেক কথাই হয় চায়ের দোকানে। কিন্তু দিনশেষে আমাদের চাওয়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, জিনিসপত্রের দাম কমা আর সুশাসন।”
ভোটের আলোচনা শুধু রাজনৈতিক অঙ্কেই সীমাবদ্ধ নয়। তরুণ ভোটাররা দেখছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে। অন্যদিকে বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটারদের চাওয়া স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান। দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর পর্যবেক্ষণ লক্ষ করা যাচ্ছে।
পাকুন্দিয়ার তারাকান্দি বাজারের বাসিন্দা ইলিয়াস বলেন,
“যিনি আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববেন, কর্মসংস্থান আর প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কথা বলবেন—আমরা তাকেই বেছে নিতে চাই।”
চায়ের দোকানের এসব আড্ডা নিছক গল্প নয়; বরং এটি জনমতের বাস্তব প্রতিফলন। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা কেবল ব্যালট বাক্সে ভোট দেওয়া নয়—তারা চাইছেন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩২ হাজার ৫১৬ জন। এখানে রয়েছে ১৭০টি ভোটকেন্দ্র ও ৯৮৮টি ভোটকক্ষ, যার মধ্যে ৫১টি অস্থায়ী। এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ২ জন স্বতন্ত্র।
বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন,জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে মো. শফিকুল ইসলাম (মোড়ল),জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মো. আফজাল হোসেন ভূঁইয়া, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে মো. শফিকুল ইসলাম,ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে আবুল বাশার রেজওয়ান ওবিএনএফ থেকে ‘টেলিভিশন’ প্রতীকে বিল্লাল হোসেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন—‘ময়ূর’ প্রতীকে মো. আনিসুজ্জামান (খোকন) ও ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে নুর উদ্দিন (আহমদ)।
তবে ভোটারদের আলোচনায় স্পষ্ট, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে হাড্ডাহাডি লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপির অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম (মোড়ল)-এর মধ্যে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চায়ের ধোঁয়ার সঙ্গে ভেসে ওঠা এই প্রত্যাশা ব্যালট বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হবে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের জনগণ।

